দক্ষিণখানে দাদিকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নাতিকে গ্রেপ্তার

রাজধানীর দক্ষিণখানে নিজ বাসায় মাহবুব আরা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দূরসম্পর্কের নাতি আবু তালহা সজিবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
দক্ষিণখানের গাওয়াইর নবীন সংঘ রোডের একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মাহবুব হাসান মামুন বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই এলাকায় থাকা নিহতের দূরসম্পর্কের নাতি আবু তালহা সজিবকে গ্রেপ্তার করে।
নিহত মাহবুব আরা বেগম (৭০) দক্ষিণখানের গাওয়াইর এলাকার মৃত হেমায়েত আলীর স্ত্রী। গ্রেপ্তার আবু তালহা সজিব পিরোজপুরের কাউখালি থানার আয়রঞ্জ পর্শী গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে। তিনি দক্ষিণখানের প্রেম বাগান এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।
হত্যাকাণ্ডের সময়কার এক মিনিটের একটি ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে মাহবুব আরা বেগম নিজ শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে কোনো শব্দ পেয়ে তার ঘুম ভেঙে যায়। ঠিক সে সময় সজিব শয়নকক্ষে ঢুকে বৃদ্ধার সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করেন। একপর্যায়ে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন সজিব।
নিহতের ছেলে মাহাবুব হাসান মামুন বলেন, তিনি রাত ৩টার দিকে উত্তরার বাসা থেকে নিজের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মায়ের ঘরের সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ চালু করে তার কোনো সাড়া পাচ্ছিলেন না। বিছানায় নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত স্বজনদের সেখানে পাঠালে তারা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে দক্ষিণখান থানা-পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আবু তালহা সজিবকে শনাক্ত করে এবং পরে তাকে গ্রেপ্তার করে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের ছেলে মামলা করলে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্ত সজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দক্ষিণখান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আবুল হোসাইন বলেন, গ্রেপ্তার আসামিকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হত্যার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশ জানায়, বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় তদন্ত ও অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
.png)





