Advertisement

গবেষকদের দাবি/রাশিয়ার তৈরি টিকা নিয়ে সুস্থ হলেন ক্যানসারের প্রথম রোগী

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
রাশিয়ার তৈরি টিকা নিয়ে সুস্থ হলেন ক্যানসারের প্রথম রোগী
প্রতীকী ছবি

ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন আশার খবর দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির তৈরি প্রথম নতুন ধরনের ভ্যাকসিন (টিকা) গ্রহণকারী ক্যানসার রোগী সুস্থ হয়েছেন। তার শরীরে ক্যানসার টিস্যুর বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠেছে বলে দাবি করেছেন গবেষকরা।

সম্প্রতি রুশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক অ্যালেক্সান্দর গিন্সবার্গ এই তথ্য জানিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের যুগান্তকারী মেলানোমা এই নতুন প্রতিষেধক তৈরিতে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।

২০২৫ সালে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দুটি পারসোনালাইজড ক্যানসার চিকিৎসার আইনি অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে একটি হলো উন্নত মেলানোমার চিকিৎসায় ব্যবহৃত এমআরএনএভিত্তিক ভ্যাকসিন ‘নিওঅনকোভ্যাক’। অপরটি হলো কোলোরেক্টাল ক্যানসারের উদ্দেশ্যে তৈরি পেপটাইড ওষুধ ‘অনকোপেপ্ট’।

গত এপ্রিল মাসে বিশ্বব্যাপী প্রথম কোনো রোগীর শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে ‘নিওঅনকোভ্যাক’ টিকাটি প্রয়োগ করা হয়। টিকা গ্রহণকারী প্রথম ব্যক্তি ৬০ বছর বয়সি একজন পুরুষ। তিনি তৃতীয় পর্যায়ের জটিল মেলানোমা ও মেটাস্টেসিসে (শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়া) আক্রান্ত ছিলেন।

বর্তমানে মস্কোর বিখ্যাত হার্জেন মস্কো অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে ওই ব্যক্তির চিকিৎসা চলছে। বিজ্ঞানীদের মতে, নিওঅনকোভ্যাক ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা যাচাইয়ে পরীক্ষা চালিয়ে ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ ফল দেখা গেছে।

টিকার প্রভাবে রোগীর শরীরে টিউমার ও ছড়িয়ে পড়া মেটাস্টেসিসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় সক্রিয় অনাক্রম্য অণু তৈরি হচ্ছে। চিকিৎসা চলাকালীন রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রতিক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি শিগগিরই আরও দুটি ডোজ গ্রহণ করবেন বলে জানানো হয়েছে।

গামালেয়া ইনস্টিটিউট আরও ঘোষণা করেছে যে, চূড়ান্ত পরীক্ষার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে আরও ১০ জন ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর জন্য কাস্টমাইজড মেলানোমা টিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে এসব টিকা তৈরি সম্পন্ন হবে।

রাশিয়ার ন্যাশনাল মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্দ্রেই কাপরিন এই প্রযুক্তিকে ক্যানসার চিকিৎসায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে রাশিয়ার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পেপটাইড ওষুধ ‘অনকোপেপ্ট’ গ্রহণকারী অন্য রোগীদের মধ্যেও কাঙ্ক্ষিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে দেখা গেছে।

গামালেয়া ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা মেলানোমার সাফল্য দেখে বর্তমানে অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং ফুসফুসের ক্যানসার (নন-স্মল সেল লাং ক্যানসার) প্রতিরোধের চিকিৎসায় এই প্রযুক্তি ব্যবহারের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছেন।

সূত্র: আরটি