Advertisement

স্পেনে এক দিনেই ঢুকে পড়ল ৫০ হাজার মানুষ, নিহত বেড়ে ১৯

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
স্পেনে এক দিনেই ঢুকে পড়ল ৫০ হাজার মানুষ, নিহত বেড়ে ১৯
সমুদ্র সাঁতরিয়ে স্পেনের ভূখণ্ড সেউতায় প্রবেশ করছেন অভিবান প্রত্যাশীরা। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের দেশে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় গত ২৪ ঘণ্টা সমুদ্র ও স্থলপথে প্রায় ৫০ হাজার অভিবাসী ঢুকে পড়েছে। নজিরবিহীন সীমান্ত অতিক্রমের এই ঘটনায় সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়া পরিস্থিতি সামাল দিতে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়াসহ কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে স্পেন ও মরক্কো।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক অনুমানে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৯ হাজারের বেশি মানুষ সমুদ্র ও স্থলপথে মরক্কো সীমান্ত পার হয়ে সেউতায় প্রবেশ করেছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত পারাপারের সময় পানি থেকে অন্তত ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক দিনে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের এমন গণহারে প্রবেশকে ইউরোপীয় সীমান্ত সুরক্ষার ইতিহাসে নজিরবিহীন হিসেবে দেখা হচ্ছে। উদ্ভূত এই সংকট ইতোমধ্যে পুরো ইউরোপজুড়ে গভীর বিরোধ তৈরি করেছে।

এমনকি ইতালি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত সীমান্ত কর্মসূচি (শেনগেন ভিসা পদ্ধতি) সাময়িকভাবে স্থগিত করার হুমকি দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্র্যান্ডে-মারলাস্কা জরুরি ভিত্তিতে সেউতা সফরে যাচ্ছেন। আজ শুক্রবারের সেখানে তারা উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন।

মরক্কো থেকে ভূমধ্যসাগরের দিকে প্রসারিত প্রায় ৮৫ হাজার জনসংখ্যার ছোট ভূখণ্ড সেউতা। এর নিকটবর্তী অপর স্প্যানিশ স্বায়ত্তশাসিত শহর মেলিলা। দুটো স্প্যানিশ ভূখণ্ডের সঙ্গেই মূলত আফ্রিকার ভূখণ্ডের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থল সীমান্ত রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় থাকা অভিবাসীদের জন্য এই দুটি শহর প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই দুটি শহরের প্রতিটিতে প্রায় ৮৫ হাজার মানুষ বাস করে।

সেউতার প্রবেশদ্বারে মরক্কো সীমান্ত কর্তৃপক্ষ ভারী জলকামানবাহী ট্রাক মোতায়েন করে সীমান্ত পার হতে চাওয়া উৎসুক জনতাকে পেছনে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে সীমান্ত এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও অন্তত সাতটি ব্যক্তিগত গাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।