বগুড়ায় বিয়ের গেটে বকশিশ নিয়ে বর ও কনেপক্ষের সংঘর্ষ

বগুড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে গেটের বকশিশের টাকা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বর ও কনেপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বরপক্ষের কয়েকজনকে আটকে রেখে মারধরসহ ১৩টি মোবাইল ফোন ও স্বর্ণের চেইনসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে কনেপক্ষ।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের তিলেরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে শাহ আলম ও সাগর নামের দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামারদহ ফেলুরপাড়া গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে সাগর মিয়ার সঙ্গে তিলেরপাড়া গ্রামের টুটুল মিয়ার মেয়ে সাথী আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে ঠিক হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় বরযাত্রী কনের বাড়িতে পৌঁছালে গেটের বকশিশের টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও পরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনার সময় স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বরপক্ষের অভিযোগ, বকশিশের টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে কনেপক্ষের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালান। এতে নারীসহ কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষের সময় তাদের ১৩টি মোবাইল ফোন, একটি স্বর্ণের চেইনসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয়। এ ছাড়া ঘটনার পর থেকে বরপক্ষের এক স্বজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বরের চাচাতো বোন জাকিয়া আক্তার বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর কনেপক্ষের কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভয় দেখান। একপর্যায়ে নারীদেরও মারধর করা হয়। কয়েকজনকে জোর করে পাটখেতের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তবে কনেপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্য, বরপক্ষের লোকজনই প্রথম হামলা চালায় এবং বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। কনেপক্ষের কেউ হামলা বা মালামাল ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত নয় বলে তারা দাবি করে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, গেটের বকশিশ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত ও মোবাইল ফোন হারানোর খবর পেয়েছি। তবে এ ঘটনায় এখনও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.png)






