হবিগঞ্জে পানি কমলেও কাটেনি দুর্ভোগ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, হবিগঞ্জ
হবিগঞ্জে পানি কমলেও কাটেনি দুর্ভোগ
ছবি: এশিয়া পোস্ট

খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যার পানি হবিগঞ্জের প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। তবে পানি কমলেও সদর উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ এখনও কাটেনি। অধিকাংশ বাড়ির আঙিনা, গ্রামীণ সড়ক ও নিম্নাঞ্চলে পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার এখনও পুরোপুরি ঘরে ফিরতে পারেনি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মইনুল হক জানান, পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় কাদার স্তর জমেছে। ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও রোগীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক কাঁচা সড়ক ভেঙে গেছে এবং কয়েকটি পাকা সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সংকট ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার অবনতিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন, খাদ্যসহায়তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, বাড়িঘরে এখনও পানি থাকায় রান্নাবান্না ও দৈনন্দিন কাজকর্ম স্বাভাবিকভাবে করা যাচ্ছে না। অব্যাহত বৃষ্টি ও খোয়াই নদীর বাঁধ ভাঙার কারণে কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেকের বাড়ির পাশের পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। প্লাবিত জমিতে ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং অসংখ্য সবজিখেত নষ্ট হয়ে গেছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাকসুদুল আলম জানান, বন্যার পানিতে একাধিক মাছের খামার ভেসে গেছে। বিভিন্ন জাতের সবজির ক্ষেত, ফলের বাগান ও কৃষিজমি তলিয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে কৃষি খাতে প্রায় ২৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও পরিবারের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সায়দুর রহমান বলেন, জেলার সব নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন করে ভারী বর্ষণ না হলে বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত ও ভাঙনকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে।

এদিকে শনিবার দুপুরে শহরের বাদৈ এলাকার খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শন করেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ জি কে গউছ, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।

পরিদর্শনকালে হুইপ জি কে গউছ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত সংস্কার করতে হবে এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। জেলা প্রশাসনকে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত, বাঁধ সংস্কার এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেন।

বিষয় :হবিগঞ্জ