সব চালে কি একই পরিমাণ পানি লাগে, জেনে নিন সঠিক নিয়ম

ভাত ঝরঝরে হবে নাকি বেশি নরম বা শক্ত হয়ে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে চালের সঙ্গে কতটা পানি ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর। কিন্তু সব ধরনের চালে একই পরিমাণ পানি দিলে ভালো ফল পাওয়া যায় না। কারণ প্রতিটি চালের বৈশিষ্ট্য আলাদা। তাই সুস্বাদু ও ঠিকমতো সেদ্ধ ভাত রান্না করতে হলে চালের ধরন অনুযায়ী পানির সঠিক অনুপাত জানা জরুরি।
আসলে সব ধরনের চালের জন্য একই পরিমাণ পানি প্রয়োজন হয় না। চালের ধরন, বয়স, পালিশের মাত্রা এবং রান্নার পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে পানির পরিমাণও পরিবর্তিত হয়। তবে কয়েকটি সাধারণ নিয়ম মেনে চললে ঘরেই সহজে ঝরঝরে ও সুস্বাদু ভাত রান্না করা সম্ভব।
চাল ধোয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ভাত রান্নার আগে চাল ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত। এতে চালের ওপর থাকা অতিরিক্ত স্টার্চ, ধুলাবালি ও ময়লা দূর হয়। তবে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করে অনেকবার ধোয়ার প্রয়োজন নেই। দুই থেকে তিনবার পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুলেই সাধারণত যথেষ্ট।
চাল ভিজিয়ে রাখলে কী হয়?
অনেকেই রান্নার আগে ২০ থেকে ৩০ মিনিট চাল ভিজিয়ে রাখেন।
এতে চাল কিছুটা পানি শোষণ করে নেয়। ফলে ভাত দ্রুত সেদ্ধ হয়, দানা তুলনামূলক ঝরঝরে থাকে এবং ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে। বিশেষ করে বাসমতি বা পোলাওয়ের চাল রান্নার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ভালো ফল দেয়।
কোন চালে কতটা পানি লাগতে পারে?
সব চালের জন্য নির্দিষ্ট একটি অনুপাত নেই। তবে সাধারণভাবে নিচের পরিমাণ অনুসরণ করা যেতে পারে।
সাধারণ সাদা চাল: ১ কাপ চালে প্রায় ১.৭৫ থেকে ২ কাপ পানি
বাসমতি চাল: ১ কাপ চালে প্রায় ১.৫ থেকে ১.৭৫ কাপ পানি
আতপ চাল: সাধারণত তুলনামূলক কম পানি লাগে
সিদ্ধ চাল: অনেক সময় কিছুটা বেশি পানি প্রয়োজন হয়
নতুন চাল ও পুরোনো চালের ক্ষেত্রেও পার্থক্য হতে পারে। নতুন চালে সাধারণত কম পানি লাগে, আর পুরোনো চাল কিছুটা বেশি পানি শোষণ করে।
রান্নার সময় যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
ভালো ভাত রান্নার জন্য কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
- ভাত ফুটতে শুরু করার পর বারবার নেড়ে দেবেন না।
- প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পানি দেবেন না।
- আঁচ খুব বেশি বা খুব কম রাখবেন না।
- ভাত হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ঢাকনা খুলে না রেখে কয়েক মিনিট ঢেকে রাখুন।
এতে ভাপের কারণে দানাগুলো আরও সুন্দরভাবে তৈরি হয়।
ঝরঝরে ভাতের ছোট কিছু কৌশল
যদি ঝরঝরে ভাত চান, তাহলে রান্না শেষে ভাতকে পাঁচ থেকে দশ মিনিট ঢেকে রেখে দিন। এরপর কাঁটাচামচ বা খুন্তি দিয়ে আলতো করে নেড়ে দিন। এতে দানাগুলো আলাদা থাকবে।
যারা বেশি পরিমাণে পানি দিয়ে ভাত রান্না করেন, তারা ভাত সেদ্ধ হওয়ার পর অতিরিক্ত মাড় ঝরিয়ে নিতে পারেন। এটিও ঝরঝরে ভাত পাওয়ার একটি প্রচলিত রান্নার পদ্ধতি।
ভাত রান্নার পাত্রও গুরুত্বপূর্ণ
মোটা তলার হাঁড়ি বা ভালো মানের নন-স্টিক পাত্রে ভাত রান্না করলে তলায় লেগে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। আর যদি রাইস কুকার ব্যবহার করেন, তাহলে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী চাল ও পানির পরিমাণ ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো।
মনে রাখবেন, ঝরঝরে ভাত রান্নার কোনো একটিমাত্র গোপন কৌশল নেই। সঠিক পরিমাণ পানি, চালের ধরন অনুযায়ী অনুপাত ঠিক রাখা, প্রয়োজন হলে চাল ভিজিয়ে রাখা এবং আঁচ নিয়ন্ত্রণে রাখাই ভালো ভাত রান্নার মূল চাবিকাঠি। কয়েকবার অনুশীলনের পর নিজের ব্যবহৃত চালের জন্য উপযুক্ত পানির পরিমাণ সহজেই বুঝে নেওয়া সম্ভব।
সূত্র: টিভি ৯





