দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে প্রতিদিন ৭ অভ্যাস মেনে চলার পরামর্শ

দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কাটানোর কোনো জাদুকরি উপায় নেই। তবে গবেষকরা বলছেন, প্রতিদিনের কিছু ছোট ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন শুধু আয়ু বাড়ানোর সম্ভাবনাই নয়, হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, কিছু ধরনের ক্যানসারসহ বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে। তাই সুস্থভাবে দীর্ঘদিন বাঁচতে চাইলে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
অনেকেই মনে করেন, দীর্ঘ জীবন পুরোপুরি ভাগ্য বা বংশগত বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, জিন গুরুত্বপূর্ণ হলেও আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাপনও দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।
গবেষণায় দেখা গেছে, এমন কিছু সহজ অভ্যাস রয়েছে যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, কিছু ধরনের ক্যানসার এবং অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এগুলো শুধু আয়ু বাড়ানোর সম্ভাবনাই নয়, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সময়ও বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
নিয়মিত হাঁটুন ও শরীরচর্চা করুন
সুস্থ থাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো নিয়মিত শরীরচর্চা। প্রতিদিন হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা বা হালকা ব্যায়াম হৃদ্যন্ত্র, পেশি এবং হাড়কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম করার চেষ্টা করা উচিত। নিয়মিত নড়াচড়া করলে শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হতে পারে।
খাবারের প্লেটে রাখুন বেশি শাকসবজি
দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য খাদ্যতালিকায় বেশি পরিমাণে শাকসবজি, ফল, ডাল, বাদাম, বীজ এবং পূর্ণ শস্য রাখা উপকারী।
এসব খাবারে আঁশ, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বি কম খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
ঘুমকে অবহেলা করবেন না
অনেকেই কাজের চাপে ঘুম কমিয়ে দেন। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ও মস্তিষ্ক দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রতিদিন নিয়মিত সময় ঘুমানো এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সম্পর্কও স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের ক্ষেত্রে শুধু খাবার বা ব্যায়াম নয়, সামাজিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরিবার, বন্ধু বা কাছের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং একাকীত্ব কমানোর চেষ্টা মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। গবেষণায় সামাজিক সংযোগকে স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ধূমপান এড়িয়ে চলুন
ধূমপান দীর্ঘস্থায়ী নানা রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ। এটি হৃদ্রোগ, ফুসফুসের রোগ এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
যারা ধূমপান করেন, তাদের জন্য ধূমপান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে উপকারী স্বাস্থ্যকর পরিবর্তনগুলোর একটি হতে পারে।
ছোট পরিবর্তনেরও মূল্য আছে
অনেকেই মনে করেন, সুস্থ থাকতে হলে একসঙ্গে জীবনযাপনে বড় পরিবর্তন আনতে হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, ছোট ছোট ইতিবাচক পরিবর্তনও দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিদিন কয়েক মিনিট বেশি হাঁটা, কিছুটা আগে ঘুমাতে যাওয়া বা খাবারে সামান্য বেশি শাকসবজি যোগ করার মতো পরিবর্তনও সময়ের সঙ্গে উপকার দিতে পারে।
শুধু আয়ু নয়, সুস্থ জীবনও গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞরা এখন শুধু কত বছর বাঁচা যায়, তা নয়; বরং কত বছর সুস্থভাবে বাঁচা যায়, সেদিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। একে বলা হয় হেলথস্প্যান।
অর্থাৎ লক্ষ্য শুধু দীর্ঘ জীবন নয়, এমন জীবন যেখানে বয়স বাড়লেও মানুষ যতটা সম্ভব স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারেন এবং ভালোভাবে দৈনন্দিন কাজ করতে পারেন।
মনে রাখবেন, দীর্ঘ জীবনের কোনো জাদুকরি সূত্র নেই। তবে প্রতিদিনের কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান থেকে দূরে থাকা এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা শুধু আয়ু নয়, জীবনের মানও উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।
সবচেয়ে বড় কথা, একদিনে সব বদলানোর প্রয়োজন নেই। ছোট ছোট ইতিবাচক পরিবর্তনই সময়ের সঙ্গে বড় সুফল এনে দিতে পারে।
সূত্র: ভেরি ওয়েল হেল্থ





