আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ই-মেইল থেকে রেফারি নিয়ে ভুয়া স্বীকারোক্তি

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ই-মেইল থেকে রেফারি নিয়ে ভুয়া স্বীকারোক্তি
ছবি: সংগৃহীত

মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বিতর্কিত জয় নিয়ে এবার মাঠের বাইরেও নতুন ঘটনা। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইল ঠিকানা থেকে কয়েকজন সাংবাদিকের কাছে এমন একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়, আর্জেন্টিনা ম্যাচটি জেতেনি এবং ‘দুর্নীতিগ্রস্ত রেফারিংয়ের’ মাধ্যমে মিশরের জয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তবে বার্তাটি নিজেদের নয় বলে স্পষ্ট করেছে এএফএ। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের একটি ই-মেইল অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টির উৎস ও ব্যাপ্তি জানতে প্রযুক্তি বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে।

সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো মেইলটির বিষয় ছিল, ‘সিস্টেম হ্যাকড: অন্যায্য সিদ্ধান্ত, মিশর ও হোসাম হাসানের জন্য ন্যায়বিচার’। বার্তার একটি অংশে লেখা ছিল, ‘আর্জেন্টিনা জেতেনি; দুর্নীতিগ্রস্ত রেফারিংয়ে জয়টি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।’

মেইলটিতে মিশরের খেলার প্রশংসার পাশাপাশি রেফারির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এবং হুমকিমূলক ভাষাও ব্যবহার করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও ফিলিস্তিনকে সমর্থনের কারণেও মিশরকে মাঠে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলে সেখানে দাবি করা হয়। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

ঘটনাটি সামনে আসার পর দ্রুত সতর্কবার্তা প্রকাশ করে এএফএ।

সংস্থাটি জানায়, ‘আমাদের একটি প্রাতিষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট থেকে এমন কিছু ই-মেইল পাঠানো হয়েছে, যা আমাদের দল তৈরি বা অনুমোদন করেনি।’

সম্প্রতি এএফএর ঠিকানা থেকে কোনো অস্বাভাবিক বার্তা পেয়ে থাকলে সেটি উপেক্ষা করতে সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুরোধ করা হয়েছে। বিশেষ করে অপরিচিত সংযোগ, সংযুক্ত নথি কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হলে সেগুলোতে প্রবেশ না করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

এএফএ স্বীকার করেছে, তাদের একটি ইমেইল অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ ঘটে থাকতে পারে। তবে কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। আর্জেন্টিনার কয়েকটি সংবাদমাধ্যম সম্ভাব্য মিশরীয় হ্যাকার গোষ্ঠীর কথা বললেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সেটি নিশ্চিত নয়।

কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আক্রমণকারীরা এএফএর তথ্যভান্ডারের একটি অংশে প্রবেশ করে ই-মেইল ঠিকানা, সিকিউরিটি কোড এবং ইন্টারনেট ঠিকানাসহ কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছে। এএফএ এখনো সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রকাশ করেনি।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ দিকে তিন গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জেতে আর্জেন্টিনা। ম্যাচে মোস্তফা জিকোর একটি গোল বাতিল এবং মোহামেদ সালাহকে ঘিরে পেনাল্টির আবেদন নাকচ হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

মিশরের কোচ হোসাম হাসানও ম্যাচটি প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেছিলেন। ফিফার রেফারিং বিভাগের প্রধান পিয়েরলুইজি কোলিনা অবশ্য পক্ষপাতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দুটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

সেই বিতর্কের মধ্যেই এএফএর ই-মেইল থেকে ভুয়া স্বীকারোক্তি পাঠানোর ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মাঠের সিদ্ধান্ত নিয়ে চলা বিরোধ এখন সাইবার নিরাপত্তার তদন্তেও গড়াল।