বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ শেষ হলো দুই গোলরক্ষকের অশ্রুতে

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ শেষ হলো দুই গোলরক্ষকের অশ্রুতে
সেন্নে ল্যামেন্স ও থিবো কোর্তোয়া। ছবি: সংগৃহীত

একজনের চোখে পানি মাঠ ছাড়ার সময়। অন্যজন কাঁদলেন ম্যাচ শেষ হওয়ার পর। স্পেনের বিপক্ষে বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ হয়েছে দুই গোলরক্ষকের অশ্রুতে। থিবো কোর্তোয়ার চোটে শুরু হওয়া ঘটনাপ্রবাহ শেষ পর্যন্ত সেনে লামেন্সের ভুল এবং বেলজিয়ামের বিদায়ে গিয়ে থেমেছে।

ম্যাচ তখন ১-১ সমতায়। প্রথমার্ধে ফাবিয়ান রুইসের গোলে এগিয়ে যাওয়া স্পেনের বিপক্ষে চার্লস দে কেতেলারের গোলে ফিরেছিল বেলজিয়াম। দ্বিতীয়ার্ধেও কয়েকটি দারুণ সেভ করে দলকে ম্যাচে রেখেছিলেন কোর্তোয়া।

কিন্তু লম্বা কিক নেওয়ার সময় পায়ের পেশিতে অস্বস্তি অনুভব করেন ৩৪ বছর বয়সী গোলরক্ষক। এরপরও খেলা চালিয়ে যান এবং কয়েকটি সেভও করেন। দ্বিতীয়বার লম্বা কিক নিতে গিয়ে ব্যথা বেড়ে গেলে তাকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কোচ রুডি গার্সিয়া।

কোর্তোয়া আরও পাঁচ থেকে দশ মিনিট মাঠে থেকে নিজের অবস্থা বুঝতে চেয়েছিলেন। বল ঠেকাতে তার কোনো সমস্যা হচ্ছিল না, অস্বস্তি ছিল শুধু লম্বা কিক নেওয়ার সময়। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ একজন গোলরক্ষককেই মাঠে রাখতে চেয়েছিলেন গার্সিয়া।

৭১ মিনিটে কোর্তোয়ার জায়গায় নামেন লামেন্স। বদলি বেঞ্চে বসে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি রিয়াল মাদ্রিদের গোলরক্ষক। তখনো তিনি জানতেন না, তার চলে যাওয়াই ম্যাচের সবচেয়ে বড় বাঁক হয়ে উঠবে।

৮৮ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শট নেন পাউ কুবারসি। লামেন্সের সামনে পড়ে কিছুটা বাউন্স করা বলটি খুব কঠিন ছিল না। কিন্তু সেটি হাতে রাখতে পারেননি বেলজিয়ান গোলরক্ষক। তার সামনে থেকে ছুটে যাওয়া বল জালে পাঠান বদলি হিসেবে নামা মিকেল মেরিনো।

মাত্র দুই মিনিট আগে মাঠে নামা মেরিনোর গোলেই স্পেন এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে। শেষ সময়ে বেলজিয়াম চেষ্টা করেও আর সমতায় ফিরতে পারেনি। সেমিফাইনালে উঠে যায় স্পেন, শেষ হয়ে যায় বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ।

শেষ বাঁশির পর কান্নায় ভেঙে পড়েন লামেন্স। যে গোলটি বেলজিয়ামকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়েছে, সেটির দায় নিজের কাঁধেই অনুভব করছিলেন তিনি। তখন পাশে দাঁড়ান কোর্তোয়া। মাঠ ছাড়ার সময় নিজে কাঁদলেও ম্যাচ শেষে তরুণ সতীর্থকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন।

কোর্তোয়া বলেন, ‘আমি তাকে জড়িয়ে ধরেছি। গোলরক্ষকদের জন্য অনুভূতিটা কতটা কঠিন, আমি জানি। সে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবে।’

বেলজিয়ামের দুর্ভাগ্য শুরু হয়েছিল ম্যাচের আগেই। প্রস্তুতির সময় চোট পেয়ে একাদশ থেকে ছিটকে যান অধিনায়ক ইউরি তিলেমানস। আগেই হাঁটুর গুরুতর চোটে বিশ্বকাপ শেষ হয়েছিল আমাদু ওনানার। ম্যাচের মাঝপথে কোর্তোয়াকে হারানো ছিল তাদের জন্য আরেকটি বড় আঘাত।

কোর্তোয়াকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি তার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি এড়ানোর জন্যই নেওয়া হয়েছিল। অথচ সেই সতর্কতামূলক বদলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিল। একজন কাঁদলেন খেলতে না পারার যন্ত্রণায়, অন্যজন একটি বল ধরে রাখতে না পারার অপরাধবোধে।