Advertisement

কুমেক হাসপাতালে ৪৮ শিশুর মধ্যে হামের টিকা নিয়েছে ছয়জন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুমিল্লা
কুমেক হাসপাতালে ৪৮ শিশুর মধ্যে হামের টিকা নিয়েছে ছয়জন
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের প্রধান ফটক। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় হামের সংক্রমণ কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ইউনিটে প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৪৮ শিশুর মধ্যে ছয়জন হাম-রুবেলা টিকা পেয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ২০ জুলাই পর্যন্ত কুমিল্লায় হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে তিন হাজার ৪০ জন। ৪৯৬ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে ১৩ জন এবং হামে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

একই সময়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে দুই হাজার ৫৮৬ জন ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই হাজার ৫১৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ইউনিটে গিয়ে দেখা যায়, আট মাস থেকে ১১ মাস বয়সি অনেক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। কম বয়সি শিশুদের অনেকেই হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় তাদের অতিরিক্ত অক্সিজেন দিতে হচ্ছে।

হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মিয়া মনজুর আহমেদ বলেন, বর্তমানে আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুই টিকা নেয়নি বা টিকা পায়নি। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে সংক্রমণ কমবে না, বরং টিকা নেওয়া শিশুরাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

তিনি দেবিদ্বার, মুরাদনগর ও চান্দিনা উপজেলায় পুনরায় টিকাদান কর্মসূচি চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রোগীদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অধিকাংশ শিশুর বাড়ি মুরাদনগর, দেবিদ্বার ও চান্দিনা উপজেলায়। শুরু থেকে এসব এলাকায় হামের সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি।

মুরাদনগরের ছোট আলীর চর এলাকার কৃষক মনির হোসেন জানান, তার ১১ বছর বয়সি কন্যা মারুফা আক্তারকে কখনও কোনো ধরনের টিকা দেওয়া হয়নি। বর্তমানে হামে আক্রান্ত হয়ে তার অবস্থা গুরুতর।

একই উপজেলার রাজনগর এলাকার খাদিজা আক্তার বলেন, তার ১৪ মাস বয়সি কন্যা তাসনিয়ার টিকা নেওয়া হয়নি। টিকা কার্যক্রমের খবর পেলেও বিভিন্ন কারণে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

নাঙ্গলকোট পৌরসভার হরিপুর এলাকার স্বর্ণা আক্তার জানান, তার চার বছর বয়সি কন্যা শেফা আক্তার জ্বর, কাশি ও সর্দি নিয়ে প্রথমে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি ছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এক মাস আগে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির সময় টিকা দিতে না পারায় এখন কোথায় টিকা পাওয়া যাবে, সেটিও জানেন না বলে জানান তিনি।

অভিভাবকদের অনেকেই বলছেন, অসুস্থতা, অসচেতনতা কিংবা বিভিন্ন কারণে যেসব শিশু টিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাদের জন্য আবারও বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালু করা প্রয়োজন।

দেবিদ্বারের বাসিন্দা রাজিব মিয়া বলেন, তার পাঁচ মাস বয়সি সন্তান সুস্থ হলে তিনি অবশ্যই টিকা দেবেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত টিকার ব্যবস্থা থাকলে বাদ পড়া শিশুরা সহজেই টিকা নিতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জেলার সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, যেসব শিশু বিশেষ কর্মসূচির সময় টিকা নিতে পারেনি, তারা সরকারি স্যাটেলাইট টিকাকেন্দ্র, নির্ধারিত ইপিআই কেন্দ্র বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে বিনামূল্যে টিকা নিতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, অসচেতনতা ও কুসংস্কারের কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানকে টিকা দেননি। বিশেষ কর্মসূচিতে জেলার প্রায় ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এখন যেসব শিশু টিকা নেয়নি, তারাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে দিচ্ছে।

বিষয় :কুমিল্লা