ওমানে খেজুর গাছ থেকে পড়ে মৃত্যু, ১৪ দিন পর ফিরল মরদেহ

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রায় ১০ বছর আগে ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন নীলফামারীর হাজিরুল ইসলাম। কিন্তু জীবিকার সন্ধানে যাওয়া সেই প্রবাসীকে শেষ পর্যন্ত ফিরতে হলো কফিনবন্দি হয়ে।
খেজুর গাছে কাজ করার সময় পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় হাজিরুল ইসলামের (৪০)। মৃত্যুর ১৪ দিন পর অবশেষে নিজ জন্মভূমিতে পৌঁছায় তার মরদেহ।
নিহত হাজিরুল ইসলাম নীলফামারী সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের খোকশাবাড়ী শাহপাড়া গ্রামের মৃত আমিজ উদ্দিনের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে হাজিরুল ইসলামের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে। এ সময় স্বজনরা শোকে ভেঙে পড়েন। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর কফিন জড়িয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
হাজিরুল ইসলাম স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।
পরিবার ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংসারের অভাব-অনটন দূর করতে প্রায় ১০ বছর আগে জমি বিক্রি করে ওমানে যান হাজিরুল ইসলাম। সেখানে একটি খেজুর বাগানে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গত ১৪ মে প্রায় ১০ মিটার উঁচু একটি খেজুর গাছে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান হাজিরুল ইসলাম। এতে তার মাথা ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রায় এক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২০ জুন তিনি মারা যান।
হাজিরুলের সহকর্মী মসিয়ার রহমান বলেন, আমরা একসঙ্গে খেজুরবাগানে কাজ করছিলাম। কাজের একপর্যায়ে হাজিরুল গাছ থেকে নিচে পড়ে যান। পরে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নিহতের ভাতিজা রাব্বানী ইসলাম জানান, মরদেহ দেশে আনার কথা ছিল গত ৩০ জুন। তবে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দেরি হওয়ায় আরও দুই দিন বিলম্ব হয়। পরে সব কাগজপত্র সম্পন্ন হলে মরদেহ দেশে পাঠানো হয়।
শুক্রবার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে হাজিরুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।





