শিক্ষকতা ও ইমামতির পাশাপাশি কৃষিতে সফলতা দেখছেন শরীফ

ধর্মীয় অনুশাসন ও শিক্ষার আলো ছড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক কৃষিতে সফলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার শিক্ষক ও ইমাম মুহাম্মদ শরীফ বিল্লাহ। শিক্ষকতা ও ইমামতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমন্বিত আধুনিক কৃষি, মৎস্য চাষ এবং গবাদিপশু পালন করে তিনি স্থানীয় কৃষক ও বেকার যুবকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন।
৪৬ বছর বয়সী শরীফ বিল্লাহ জিয়ানগর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম চরবলেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জেলা শহরের একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ওই গ্রামের বায়তুল হামদ জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর কৃষিকে আত্মনির্ভরতার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির পাশে প্রায় পাঁচ কাঠা জমিতে পুঁইশাক, লাউ, ঢেঁড়স, করলা, মিষ্টিকুমড়া, বরবটি ও পেঁপেসহ নানা ধরনের সবজির আবাদ করেছেন তিনি। এই কাজে তাকে সার্বক্ষণিকভাবে সহযোগিতা করছেন তার ভাই স্কুলশিক্ষক আরিফ বিল্লাহ। প্রয়োজনভেদে আবাদি জমিতে একাধিক শ্রমিকও কাজ করছেন।

সবজি চাষের পাশাপাশি আরও পাঁচ কাঠা আয়তনের একটি পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩০ হাজার টাকার মাছ চাষ করছেন শরীফ বিল্লাহ। মাছের সঠিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে তিনি ডিজিটাল যন্ত্রের মাধ্যমে পানির পিএইচ পরীক্ষা ও নিয়মিত আধুনিক পরিচর্যা করছেন। একই সঙ্গে গরু ও মুরগি পালন করেও তিনি বাড়তি আয়ের পথ তৈরি করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস খান বলেন, শরীফ বিল্লাহ খুব ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছেন। তাকে দেখে এলাকার অনেক মানুষ কৃষির প্রতি আগ্রহী হচ্ছে।
কৃষক ফজলু বেপারী জানান, শরীফ বিল্লাহ আমাদের বিভিন্ন কৃষি উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করেন। তিনি যে আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করছেন, তা দেখে আমরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছি এবং এসব পদ্ধতি অনুসরণ করছি।
আরেক কৃষক মোশাররফ বেপারী বলেন, আগে আমরা আধুনিক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে তেমন জানতাম না। এখন শরীফ বিল্লাহর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারছি। বিশেষ করে গরু মোটাতাজাকরণ ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে তার পরামর্শ আমাদের কাজে লাগছে।
নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে শরীফ বিল্লাহ বলেন, একজন ইমামের কৃষিতে সফলতার গল্প পত্রিকায় পড়েই আমি অনুপ্রাণিত হই। এরপর পরীক্ষামূলকভাবে কৃষিকাজ শুরু করি। অল্প সময়েই ভালো ফল পাচ্ছি। কৃষিঋণ পেলে কাজের পরিধি আরও বাড়াতে পারব। পাশাপাশি এলাকার কৃষক ও যুবকদেরও আধুনিক কৃষি বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছি। তাদের অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

জিয়ানগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয় এবং ১৫ হাজারের অধিক পরিবার কৃষির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিবছর বিভিন্ন প্রণোদনা ও বীজ সহায়তা কর্মসূচির আওতায় অনেক প্রান্তিক কৃষককে সরাসরি সহায়তা দেওয়া হয়। শরীফ বিল্লাহ আমাদের কাছ থেকে কৃষি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং কৃষি প্রণোদনাও পেয়েছেন। তিনি নিয়মিত কৃষি বিভাগের পরামর্শ গ্রহণ করেন। ভবিষ্যতেও তাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।
কৃষির পাশাপাশি ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় শরীফ বিল্লাহ। তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত একটি ‘সহজ কুরআন শিক্ষা কেন্দ্র’ পরিচালনা করছেন। এর আগে ২০২৫ সালের ১২ জুন থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪৫ দিনের ইমাম প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিয়ে ১০৩ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে এ-প্লাস পেয়ে চতুর্থ স্থান অর্জন করেন।





