Advertisement

ইমো কলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর বাঁচার আকুতিতে ছুটে আসে পরিবার

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুষ্টিয়া
ইমো কলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর বাঁচার আকুতিতে ছুটে আসে পরিবার
নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর পিঠে বেত্রাঘাত। ছবি: এশিয়া পোস্ট

কুষ্টিয়া শহরের এক মাদ্রাসায় হেফজ শিক্ষার্থী হোসাইনকে টানা কয়েক দিন আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে ইমো অ্যাপের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকালে নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়টি এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ইকবাল হোসেন।

তিনি বলেন, মাদ্রাসার ওই ছাত্রকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে বেগম সফুরা খাতুন ট্রাস্ট পরিচালিত কুষ্টিয়া শহরের ঈদগাহপাড়ায় অবস্থিত মাদরাসাতুস-সালেহীন মাদ্রাসায়। মারধরের অভিযোগ হেফজ বিভাগের শিক্ষক আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানায়, মাদ্রাসার কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে ১৩ বছর বয়সি ওই শিক্ষার্থীর কথা-কাটাকাটি এবং পরে মারামারির ঘটনা ঘটে। পুরো ঘটনার দায় এককভাবে তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। গত রোববার থেকে টানা তিন দিন তাকে মাদ্রাসায় আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।

সে জানায়, নির্যাতনের একপর্যায়ে রাতে সুযোগ পেয়ে এক বড় ভাইয়ের সহায়তায় ইমো অ্যাপের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়। খবর পেয়ে পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা মাদ্রাসায় ছুটে আসেন।

শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, আমার ছেলে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। একটি ঘটনার জেরে এক শিক্ষক তাকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করেছেন। খবর পেয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখি, আমার ছেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও কাটা দাগ রয়েছে। রাতে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে চাইলে আমাদের বাধা দেওয়া হয়। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক আসাদুজ্জামান বলেন, ওই শিক্ষার্থী প্রায়ই সহপাঠীদের খাবার খেয়ে ফেলত। তাকে বারবার সতর্ক করা হলেও তার আচরণে পরিবর্তন আসেনি। অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অভিযোগ করেছে এবং সে-ও কিছু বিষয় স্বীকার করেছে। তাকে এভাবে মারধর করা আমার উচিত হয়নি।

শিক্ষার্থীকে কয়েক দিন আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, তার বাড়ি মাদ্রাসার খুব কাছে। তাকে আটকে রাখার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় মাদ্রাসায় আসা-যাওয়া করেছেন।

মাদ্রাসার এতিমখানার সুপার সালমা বলেন, এ বিষয়ে আমরা হুজুরের সঙ্গে কথা বলেছি। অভিযুক্ত শিক্ষককে এই মাসের মধ্যে বিদায় করে দেওয়া হবে।

বিষয় :কুষ্টিয়া