ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তরুণীকে ধানের মিলে আটকে মারধর

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে এক তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ধানের মিলে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পরে ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের বালিয়াকান্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী তরুণী (২৪) বাদী হয়ে সাতজনকে অভিযুক্ত করে সিরাজদিখান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ওই তরুণী বালিয়াকান্দা এলাকার তারামিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। সেখানে থাকার পর থেকেই বাড়ির মালিকের নাতি তামিম (১৮) তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। একাধিকবার মোবাইল ও ফেসবুকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার পর একপর্যায়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টাও করা হয়। বিষয়টি বাড়ির এক সদস্যকে জানালে কোনো প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগী, উল্টো মারধরের শিকার হতে হয় তাকে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৭ জুলাই গভীর রাতে ভুক্তভোগীর কক্ষের বাইরে উঁকিঝুঁকি দেওয়ার প্রতিবাদ করলে তাকে চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে ১৯ জুলাই দুপুরে অভিযুক্তরা তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে মালামাল পুড়িয়ে ফেলা ও বাসায় ঢুকতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ওইদিনই স্থানীয় বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার ধানের মিলে নিয়ে তাকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে জীবন বাঁচাতে ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা এড়িয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ঘটনার সময় আমি মুন্সীগঞ্জে ছিলাম। একটা খারাপ মেয়েকে মারছে, তাতে কী হয়েছে? বিষয়টি এমপি সাহেবকে জানিয়েছি।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.png)






