Advertisement

শিল্পকলা একাডেমিতে প্রশংসিত নাটক ‘নিঃসঙ্গ নিরাময়’

এশিয়া পোস্ট বিনোদন
শিল্পকলা একাডেমিতে প্রশংসিত নাটক ‘নিঃসঙ্গ নিরাময়’

যোগাযোগের আধুনিক হাজারো মাধ্যম মানুষের নাগালে থাকা সত্ত্বেও বর্তমান সময়ের এক বড় বাস্তবতার নাম ‘নিঃসঙ্গতা’। আধুনিকতার এই যুগে বিপুল মানুষের ভিড়েও মানুষ আজ একা। সমসাময়িক সামাজিক বাস্তবতা ও মানবিক সম্পর্কের এই গভীর সংকটকে মঞ্চে তুলে ধরে দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ালো নাটক ‘নিঃসঙ্গ নিরাময়’।

রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়।

নাটকের প্রেক্ষাপট প্রবাসে স্বামীকে হারিয়ে ও একমাত্র ছেলের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দেশে ফেরেন রাইসা খানম। দেশে ফিরে তিনি দেখেন মানুষের ভিড় বাড়লেও বেড়েছে আত্মকেন্দ্রিকতা ও নিঃসঙ্গতা। একই ছাদের নিচে বাস করেও মানুষ আজ পরস্পরের সঙ্গী হতে পারছে না। এই আত্মকেন্দ্রিক মানুষকে মানসিক সঙ্গ ও সহায়তা দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে রাইসা গড়ে তোলেন ‘নিঃসঙ্গ নিরাময় কেন্দ্র’।

সাইনবোর্ড দেখে কৌতূহলবশত সেখানে হাজির হন নিঃসঙ্গ প্রৌঢ় মাহাবুব হাসান। রাইসার ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে তিনি সেশনে অংশ নেন। ঘটনাচক্রে মাহাবুবের উড়নচণ্ডী ছেলে রাহবার এবং তার বান্ধবী রুকুও সেখানে উপস্থিত হয়। রাইসার প্রস্তাবে রুকু সেখানে চাকরি নেয় এবং মাহাবুবের পরিচয় না জেনেই তাকে সঙ্গ দিতে শুরু করে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাবা ও ছেলের সম্পর্কের সংকট ঘনীভূত হয়। বাধ্য হয়ে মধ্যস্থতায় নামেন রাইসা। তখন মাহাবুব তার জীবনের নানা সংকটের গল্প তুলে ধরেন এবং সংকট নিরসনে রাইসাকে এক অবিশ্বাস্য প্রস্তাব দেন—যা মেনে নেওয়া রাইসার পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। এমন এক জীবনঘনিষ্ঠ ও নাটকীয় মোড় নিয়েই এগিয়ে যায় নাটকের কাহিনি।

নাটকটি রচনা করেছেন রবিউল আলম এবং নির্দেশনা দিয়েছেন নাজমুল হাসান শুভ। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসরীন গীতি, আরিস্ফা খান, নাজমুল হাসান, কানন খান, তাহমিনা আক্তার লিজাসহ আরও অনেকে। তাদের চমৎকার অভিনয়শৈলী দর্শক ও নাট্যপ্রেমীদের গভীরভাবে আলোড়িত করেছে।