২৮ ঘণ্টা পর রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল শুরু

টানা প্রায় ২৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের দূরপাল্লা ও আন্তজেলা বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত থেকে ধীরে ধীরে বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল শুরু হয়। একই সঙ্গে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যের বাস কাউন্টারগুলো খুলে দেওয়ায় যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবে টিকিট সংগ্রহ করে গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন।
এদিন বিকেল থেকে শ্রমিকদের বিভিন্ন পক্ষ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনসহ যেসব বিষয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সেগুলোর আপস-সমঝোতা করে নেয়।
এর আগে রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি-ট্রাফিক) নূর আলম সিদ্দিকী পরিবহন শ্রমিকদের উভয় পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে শ্রমিকদের একটি পক্ষ নির্বাচনকালীন কমিটিতে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালকে না রাখার দাবি জানায়। আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় নির্বাচনকালীন আহ্বায়ক কমিটিতে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখি গ্রুপের চারজন এবং শ্রমিক নেতা মোমিন গ্রুপের চারজন সদস্য থাকবেন।
এদিকে শ্রমিকদের সাংগঠনিক বিরোধের জেরে গত সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে হাজারো যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আলোচনা এবং প্রশাসনের উদ্যোগে অচলাবস্থার অবসান হওয়ায় পরিবহন খাত ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
মঙ্গলবার রাত থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও শিরোইল বাসস্ট্যান্ডসহ নগরীর বিভিন্ন কাউন্টারে স্বাভাবিক কার্যক্রম দেখা যায়। কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের ভিড় থাকলেও আগের মতো অনিশ্চয়তা ছিল না। নির্ধারিত সময়ে বাস ছেড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যেও স্বস্তির ছাপ দেখা গেছে।
ঢাকাগামী যাত্রী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, দুই দিন ধরে বাস বন্ধ থাকায় খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আজ এসে দেখি সব কাউন্টার খোলা, সহজেই টিকিট পেয়ে গেছি। এখন নির্ধারিত সময়েই ঢাকায় যেতে পারব। এতে অনেক স্বস্তি লাগছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহীতে এসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়া যাত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, গতকাল বাস না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছিল। আজ এসে কোনো ঝামেলা ছাড়াই টিকিট পেলাম। বাস চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।
আরেক যাত্রী আল-আমিন হোসেন বলেন, হঠাৎ বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ কাজ মিস করেছেন। এখন আবার বাস চলাচল শুরু হওয়ায় সবাই স্বস্তি ফিরে পেয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি আর তৈরি না হয়, সেটিই প্রত্যাশা।
বাস কাউন্টার-সংশ্লিষ্টরা জানান, সব রুটেই ধাপে ধাপে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। যাত্রীর চাপ থাকলেও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাস ছেড়ে যাচ্ছে এবং আগাম টিকিট বিক্রিও স্বাভাবিক রয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল জানান, যাত্রীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে শ্রমিকদের বোঝানো হয়েছে, তারা যেন সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের কষ্টে না ফেলে। পরে শ্রমিকদের নিজেদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমেই আবারও বাস চলাচল শুরু হয়েছে।





