আলোচিত হরিদাস তরনী গ্রেপ্তার

এশিয়া পোস্ট নিউজ
আলোচিত হরিদাস তরনী গ্রেপ্তার
হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮২ ফুট রামমূর্তি স্থাপনের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসকে মানিলন্ডারিং মামলায় গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আজ সকাল ১০টার দিকে বিষয়টি বাসসকে নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান।

এর আগে গতকাল রোববার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার সিআইডির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খান বলেন, ঢাকা থেকে আসা সিআইডির বিশেষ দলটি রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে হরিদাসকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। ঢাকার উত্তরার পশ্চিশ থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মানিলন্ডারিং মামলা রয়েছে। সেই মামলায় পলাশবাড়ী পুলিশের সহযোগিতায় রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় নিয়ে যায় সিআইডি পুলিশ। হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে নানা কর্মকাণ্ডের জন্য আলোচিত ছিলেন। ধর্মকে পুুঁজি করে প্রতিনিয়ত তিনি প্রতারণা করে আসছেন।

এর আগেও ২০২২ সালে ৮ নভেম্বর বিভিন্ন অফিসার, মন্ত্রীর ভুয়া পরিচয়ে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাত মামলায় র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন।

সেই মামলা থেকে জামিন নিয়ে তিনি পালিয়ে বেড়ান। চব্বিশের এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে ফিরে মূর্তি ও ধর্মের নামে নানা ধরনের প্রতারনা শুরু করেন। এর আগে তিনি ধর্ম পরিবর্তন করে তাওহীদ ইসলাম নাম রাখেন। সেই সময় সুমি ইসলাম নামে একজনকে বিয়ে করেন।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮২ ফুট রামমূর্তি স্থাপন করতে গিয়ে আলোচনায় আসেন হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস। কয়েক মাাস ধরে পলাশবাড়ীতে হরিদাসের বিরুদ্ধে উন্মুক্ত স্থানে রামমূর্তি নির্মাণের প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে আসছে কয়েকটি সংগঠন। সেখান থেকে রামমূর্তি নির্মাণ বন্ধ, হরিদাসকে গ্রেপ্তারসহ তার বিপুল পরিমাণ সম্পদের উৎস জানার দাবি তুলেছে বিভিন্ন সংগঠন।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরে ৮২ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন রাম মূর্তি অপসারণের দাবিতে পলাশবাড়ী ইমাম ওলামা পরিষদের উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত করে আসছে।