৩ উপজেলার আলিম পরীক্ষার কেন্দ্র একটি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
৩ উপজেলার আলিম পরীক্ষার কেন্দ্র একটি
ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি উপজেলার আলিম পরীক্ষার্থীদের জন্য মাত্র একটি কেন্দ্র নির্ধারণ করায় প্রতিবছরের মতো এবারও চরম যাতায়াত বিড়ম্বনায় পড়েছেন শত শত শিক্ষার্থী। জেলার গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলার পরীক্ষার্থীদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ওই কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

Advertisement

জেলা প্রশাসনের শিক্ষা শাখা জানায়, আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবারের আলিম পরীক্ষায় তিন উপজেলার জন্য একমাত্র কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌর এলাকার প্রসাদপুর কামিল মাদ্রাসা। এই কেন্দ্রে মোট ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৬৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

জানা গেছে, এই একক কেন্দ্রের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সীমান্তবর্তী ভোলাহাট ও নাচোল উপজেলার দূর-দূরান্তের পরীক্ষার্থীরা। ভোলাহাট উপজেলার শেষ প্রান্ত ভারত সীমান্ত সংলগ্ন গোহালবাড়ী ও দলদলী ইউনিয়নের শেষ সীমানা থেকে এই পরীক্ষা কেন্দ্রের দূরত্ব প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার। অন্যদিকে, নাচোল উপজেলার শেষ সীমানা অর্থাৎ তানোর ও নিয়ামতপুর সীমান্ত সংলগ্ন নাচোল ইউনিয়নের শেষ প্রান্ত থেকে প্রসাদপুর মাদ্রাসার দূরত্ব প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার। গ্রামীণ সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থান খানাখন্দে ভরা থাকায় এবং ধীরগতির যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের বাড়তি মানসিক চাপ নিয়ে অনেক ভোরে কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা হতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, যেসব পরীক্ষার্থীর আত্মীয়ের বাড়ি গোমস্তাপুরে আছে, তারা সেখানে অবস্থান করে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু যাদের কোনো আত্মীয় নেই, তারা প্রতিদিন বাড়ি থেকে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।

নাচোলের নেজামপুর আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সারোয়ার জাহান বলেন, পরীক্ষার দিন সকালে প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান। ওই দিন মাথায় টেনশন নিয়ে এত দূরের পথ পাড়ি দিয়ে কেন্দ্রে বসে পরীক্ষা দেওয়াটা শারীরিক ও মানসিক বড় চাপ।

ভোলাহাটের দলদলী এলাকা থেকে আসা পরীক্ষার্থীর অভিভাবক আব্দুল মান্নান বলেন, মেয়েকে নিয়ে ভোরে বের হতে হয়। ভাঙা রাস্তায় অটোতে ঝাঁকুনি খেতে খেতে কেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ভুক্তভোগীরা বিশেষ করে নারী পরীক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে নাচোল ও ভোলাহাটে পৃথক পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন সুলতানা এশিয়া পোস্টকে বলেন, আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জেলায় মোট ১৩ হাজার ৩৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে আলিম পরীক্ষায় বসবেন এক হাজার ৫১ জন।

তিন উপজেলার আলিম পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি মাত্র কেন্দ্রের বিষয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় এই সমস্যাটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কেন্দ্র নির্ধারণের বিষয়ে কথা উঠেছে। এবারের পরীক্ষাটি সম্পন্ন হওয়ার পর আগামীতে এই বিষয়ে গুরুত্বসহকারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।