‘হঠাৎ ধসে পড়ল পাহাড়, কয়েক সেকেন্ডের জন্য প্রাণে বাঁচলাম’

টানা ভারী বর্ষণের কারণে বান্দরবানের আমতলী এলাকায় ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে বান্দরবানের সঙ্গে কেরানীহাট-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) আনুমানিক বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে বিশাল আকৃতির একটি পাহাড় ধসে সড়কের ওপর পড়লে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, পাহাড়ধসের পরপরই ওই সড়কের দুই পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। এতে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আটকা পড়া অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় সড়কের ওপরই চরম ভোগান্তির মধ্যে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রিয়াজ উদ্দীন বলেন, ‘আমরা বাজার করে বাসায় ফিরছিলাম। হঠাৎ আমাদের চোখের সামনেই বিশাল একটি পাহাড় ধসে পড়ে। আল্লাহর রহমতে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছি। কয়েক সেকেন্ড আগে হলে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারত।’

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার এবং সড়ক পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছে। সড়ক থেকে ভারী মাটি ও পাথর সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, পাহাড়ধসের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত মাটি অপসারণের কাজ শুরু করেছেন। তাঁদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করছেন। প্রয়োজন হলে আরও অতিরিক্ত টিম মোতায়েন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বান্দরবানে চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে মাইকিং করে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে। সবাইকে অপ্রয়োজনে পাহাড়ের আশপাশে অবস্থান না করার আহ্বান জানাচ্ছি।
এদিকে টানা বর্ষণের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি আরও বেড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নতুন করে কোথাও পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
.png)






