বরগুনা বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বিস্ফোরণ, ৬৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বরগুনা
বরগুনা বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বিস্ফোরণ, ৬৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন
বিস্ফোরিত ট্রান্সফরমার। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বরগুনার পল্লী বিদ্যুতের একটি উপকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটিজনিত বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে সদর উপজেলায় গত ১৮ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সন্ধ্যার মধ্যেই বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের খাজুরতলা এলাকার সাবস্টেশনে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বরগুনা জোনাল অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাজুরতলা এলাকার পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্রের মাধ্যমে বরগুনা সদর উপজেলায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

গত রাতে হঠাৎ উপকেন্দ্রের ভেতরে বিকট শব্দ হয়। এরপর কেন্দ্রটির ৬ নম্বর ফিডারে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন লেগে যায়। আগুনের স্থায়িত্ব প্রায় ৪০ সেকেন্ড হলেও এতে স্টেশনের অন্য ফিডার, বিভিন্ন তারের সংযোগ এবং কিছু যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তবে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও বরগুনা সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রায় ৬৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

খাজুরতলা এলাকার বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান বলেন, সোমবার রাত দশটার দিকে বিকট শব্দ করে হঠাৎ চারদিকে আলোর ঝলকানি ছড়িয়ে পড়ে। এই আলোর স্থায়িত্ব ছিল অন্তত ৪০ সেকেন্ডের মতো। এরপর বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে এসে দেখি, এখানে বিকট শব্দ করে আগুন ধরে গিয়েছিল। এরপর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বরগুনা জোনাল কার্যালয়ের ডিজিএম মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এশিয়া পোস্টকে বলেন, হঠাৎ বিকট শব্দ হয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, ১১ কেভি এসিআর বিস্ফোরিত হয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া অনেক তার ও যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। আমরা রাত থেকেই কাজ শুরু করেছি এবং সব যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করছি।

তিনি আরও বলেন, যে যন্ত্রাংশটি পুড়ে গেছে তা পটুয়াখালী থেকে আনা হয়েছে। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, সন্ধ্যার মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পারব।

ঘটনার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ ত্রুটির কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না কেন এ ঘটনা ঘটেছে।

বিষয় :বরগুনা