পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম শিশু ধর্ষণ-হত্যা/বারুইপুরকাণ্ডে ২০০ জন চিহ্নিত, কাউকেই ছাড় নয়: শুভেন্দু অধিকারী

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কলকাতা
বারুইপুরকাণ্ডে ২০০ জন চিহ্নিত, কাউকেই ছাড় নয়: শুভেন্দু অধিকারী
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে মুসলিম শিশু ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) দপ্তরে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে সেখানে তিনি জেলার শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন।

বৈঠকে বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত তদন্তের অগ্রগতি, কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ফরেনসিক রিপোর্টের বর্তমান অবস্থা, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ কতদূর এগিয়েছে এবং তদন্তের পরবর্তী রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রশাসনিক সূত্র জানায়, বৈঠকে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুভেন্দু অধিকারী এসপি অফিসে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে নিহত কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা আসেন। তাদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ শোনার পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন তিনি। একই সঙ্গে পরিবারের দাবি-দাওয়া এবং উদ্বেগের বিষয়গুলোও গুরুত্বসহকারে শোনেন।

প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, এই সংবেদনশীল ঘটনায় কোনো ধরনের শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না। পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্তে কোনো রকম আপস করা হবে না। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।

পরে বারুইপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ডিজিপিকে ৭২ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। তারপরেই কড়া ব্যবস্থা নেব। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। দুই পরিবারের সঙ্গেই কথা বলেছি। এলাকায় আউটপোস্ট চালু করা হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে আমি আবার আসব। সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা আপনারা দেখতে পাবেন।’

ঘটনার পর সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘যারা পুলিশের গাড়ি ভেঙেছেন, রেললাইন উপড়েছেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার ব্যবস্থা করব। যারা ভোটে হেরেছেন, (উসকানিতে) তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে।’

রাজ্য বিজেপির এই নেতা বলেন, ‘আমি ক্ষমতায় এসেই আরজি কর কাণ্ডের তিন আইপিএসকে সাসপেন্ড করেছি। বারুইপুরের নির্যাতিতার পরিবারের ১০-১২ জনের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা সরকারের পদক্ষেপে সন্তুষ্ট। তবে এই ঘটনার পর যারা উসকানি দিয়েছেন, এমন ২০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সহিংসতায় তিনজন পুলিশ কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, আমি তাদের দেখতে যাচ্ছি।’