৪ হাজার কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ায় সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড দিল চীন

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
৪ হাজার কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ায় সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড দিল চীন
ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চীনা সাবেক কর্মকর্তা ইয়াং ইউলিক। ছবি: সংগৃহীত

চাকরিজীবনের ৩০ বছরে ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ৩২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা) ঘুষ নেওয়ার দায়ে এক সাবেক নগর কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় চাংঝৌ শহরের একটি আদালত।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

প্রতিবেদেন অনুসারে, দণ্ডপ্রাপ্ত ওই কর্মকর্তর নাম ইয়াং ইউলিক। ১৯৯৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি নানজিং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ঘুষ গ্রহণের পাশাপাশি আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ পাচারের অভিযোগেও তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। অবৈধভাবে অর্জিত তার সম্পদের পরিমাণ সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম সর্বোচ্চ।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৯ বছর বয়সি ইয়াং অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রীর বিনিময়ে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্যদের প্রকৌশল প্রকল্পের চুক্তি, জমি হস্তান্তর এবং অর্থায়নের সুবিধা পেতে সহায়তা করতেন।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ইয়াংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। এই অভিযান সামরিক বাহিনী, ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতেও বিস্তৃত হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) চাংঝৌ শহরের একটি আদালত রায়ে বলেন, ইয়াং তার কর্মজীবনের বেশির ভাগ সময় নানজিংয়ের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন।

আদালত বলেন, তিনি ‘অত্যন্ত গুরুতর’ অপরাধ করেছেন এবং তার কর্মকাণ্ড ‘রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে ব্যতিক্রমী মাত্রার ক্ষতি’ করেছে।

ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ধারাবাহিকভাবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়ে আসছেন। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এই অভিযান অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। চীনে আর্থিক দুর্নীতির মামলায় মৃত্যুদণ্ডের নজির খুব বেশি না থাকলেও, বিশেষ করে এক বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি অর্থ জড়িত থাকলে আদালত কখনও কখনও এমন শাস্তি দিয়ে থাকেন।

এর আগে, সাবেক আর্থিক প্রতিষ্ঠানপ্রধান লাই জিয়াওমিনকে ১০ বছরে ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ইউয়ান ঘুষ নেওয়ার দায়ে ২০২১ সালে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া ইনার মঙ্গোলিয়ার সাবেক কর্মকর্তা লি জিয়ানপিংকে ৩ বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ২০২৪ সালে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

তবে এ ধরনের অনেক মামলায় আদালত কারাদণ্ড বা স্থগিত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। নির্দিষ্ট সময় পর এসব স্থগিত মৃত্যুদণ্ড সাধারণত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়। যেসব মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিরা অন্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে তদন্তে সহায়তা করেন, সেসব ক্ষেত্রে আদালত অনেক সময় শাস্তি কমিয়ে দেন।

তবে চাংঝৌ আদালত বলেছেন, ইয়াং তদন্তে সহযোগিতা করলেও তার অপরাধের গুরুত্ব এতটাই বেশি ছিল যে, সেই সহযোগিতা আরও লঘু শাস্তি দেওয়ার জন্য যথেষ্ট বিবেচিত হয়নি। ইয়াং আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং চূড়ান্ত বক্তব্যে অনুশোচনাও প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।