logo

সাবেক তিন এমপিসহ আ.লীগের সাত নেতার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, ঠাকুরগাঁও
সাবেক তিন এমপিসহ আ.লীগের সাত নেতার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক তিন সংসদ সদস্যসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাত নেতার নামে ইস্যুকৃত আটটি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করেছে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন। অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ রফিকুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গত ২২ জুন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হকের স্বাক্ষরিত পৃথক আদেশে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে বলা হয়, “অস্ত্র আইন ১৮৭৮-এর ১৮(এ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গঠিত যাচাই-বাছাই কমিটির গত ১১ জুন অনুষ্ঠিত সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত ‘আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫’-এর ১৯(চ) ধারা অনুযায়ী জননিরাপত্তার স্বার্থে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে লাইসেন্সের আওতাধীন অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত রমেশ চন্দ্র সেন। তার লাইসেন্স নম্বর ১৫০; অস্ত্রের ধরন রিভলবার-৪০১৫৪।

ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত দবিরুল ইসলাম। তার লাইসেন্স নম্বর ২৫৫; অস্ত্রের ধরন একনলা বন্দুক-২৫২০। তার বড় ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য কারাবন্দি মাজহারুল ইসলাম সুজন। তার লাইসেন্স নম্বর ১৫৯; অস্ত্রের ধরন এনপিবি পিস্তল- ৬৩৬৮-১৫।

দবিরুল ইসলামের ছোট ভাই ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলামের দুটি অস্ত্র। তার লাইসেন্স নম্বর ২৫১; অস্ত্রের ধরন একনলা ৮৪৩৯৭-জি এবং ১৫৮, এনপিবি পিস্তল ০৬৩১৫৬।

দবিরুল ইসলামের ভাতিজা বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল। তার লাইসেন্স নম্বর ১৬৫; অস্ত্রের ধরন এনপিবি পিস্তল বি-০৭৭২৮৩।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অরুনাংশু দত্ত টিটো। তার লাইসেন্স নম্বর ১৬২; অস্ত্রের ধরন এনপিবি, টিও৬২০-১৮, টিএফ ০০১৫২ এবং কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির উপদেষ্টা ও হরিপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ.কে.এম শামীম ফেরদৌস টগর। তার লাইসেন্স নম্বর ১৫৪; অস্ত্রের ধরন নম্বর ১২ শটগান ৩১৪০৯৬।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা, যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশ এবং প্রচলিত আইন ও নীতিমালার আলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবস্থাপনায় সরকারের নীতিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।