হাতিয়ায় ৭ ইউনিয়ন প্লাবিত, ৩ দিন চুলায় ওঠেনি হাঁড়ি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নোয়াখালী
হাতিয়ায় ৭ ইউনিয়ন প্লাবিত, ৩ দিন চুলায় ওঠেনি হাঁড়ি
ছবি : এশিয়া পোস্ট

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারে সাতটি ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানিতে নিঝুম দ্বীপের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকার বসতঘর, ফসলের মাঠ, মাছের ঘের ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন উপকূলের বাসিন্দারা।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তমরদ্দি, সুখচর, জাহাজমারা ও নলচিরা ইউনিয়ন। কৃষকদের চাষাবাদে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে হাতিয়ার সাতটি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তমরদ্দি, সুখচর, জাহাজমারা ও নলচিরা ইউনিয়ন। এসব এলাকার বসতঘর, রান্নাঘর, আঙিনা, গ্রামীণ সড়ক এবং মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে নিম্ন আয়ের ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

তারা আরও জানান, শুধু মূল ভূখণ্ডই নয়, নিঝুম দ্বীপসহ দমারচর, ঢালচর, চরগাসিয়া, নলের চর, বয়ার চর, চর আতাউর ও মৌলভীর চরের বিস্তীর্ণ এলাকাও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাকিব আহমেদ বলেন, একদিকে জোয়ারের পানি, অন্যদিকে ভারী বর্ষণে হাতিয়ার অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে। নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। অনেকের রান্নাঘরে পানি ওঠায় গত তিন দিন ধরে চুলায় হাঁড়ি ওঠেনি। এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি বলে জানান তিনি।

নিঝুমদ্বীপের বন্দর টিলা বাজারের ব্যবসায়ী শাহারাজ বলেন, টানা বৃষ্টিতে বাড়ি ঘরে পানি উঠে যাওয়ায় লোকজন দোকানপাটে আসতে পারছে না। বেচাকেনা না থাকায় ব্যবসায়িক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তিনি। খেটে খাওয়া লোকজন খুব কষ্টের জীবন যাপন করছেন।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

হাতিয়ার নলচিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম আজিজ জানান, টানা বর্ষণের ফলে ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে অনেক পরিবারের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি দ্রুত না নামলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তালিকা করা হচ্ছে। এ জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীতে ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১১টি টিম মাঠে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ৫০০ থেকে ৬০০ মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের বিভিন্ন কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।