সুন্দরবন এক্সপ্রেস কর্মীদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, পুলিশের মামলায় তিন যাত্রী গ্রেপ্তার

কুষ্টিয়া কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের কর্মীদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে পুলিশের মামলায় তিন যাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর এশিয়া পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন, চুয়াডাঙ্গার আব্দুর রহিমের ছেলে পলাশ, সফিউল আউয়াল সুমন ও পলাশের বন্ধু মো. মামুন।
শনিবার দুপুরের ওই ঘটনার পর রাতে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এর আগে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর পৌনে একটার দিকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে পৌঁছায়। ট্রেনের মধ্যে যাত্রী ও টিটিইর (ট্রেনের ট্রাভেলিং টিকিট পরীক্ষক) কথাকাটাকাটি হয়। যাত্রীরা লোকোমাস্টারকে জোরপূর্বক বাধ্য করে ট্রেনের ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন এবং স্বজনদের খবর দেন।
তাদের স্বজনরা এসে ট্রেনের ভেতর গিয়ে রেলকর্মীদের খোঁজাখুঁজি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা-পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
পুলিশের বাধার মুখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন যাত্রীরা। আসামিরা পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে আক্রমণ চালালে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর, উপপরিদর্শক (এসআই) মলয় কুমার চক্রবর্তী, এসআই আব্দুল আলীম, এসআই স্বপন কুমার মন্ডল এবং কনস্টেবল শামীম হোসেন গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে পুলিশ লাইন্স ও ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত ফোর্স গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের একটি অংশের দাবি, এসি বগিতে ওঠাকে কেন্দ্র করে চলন্ত ট্রেনের ভেতরে টিটিই শহিদুল ইসলামের ছেলে মামুন এক যাত্রী ও তার ছেলেকে চাকু দিয়ে আঘাত করেন।
এ ঘটনায় আহত আব্দুর রহিম বলেন, আমরা মারধরের শিকার হলাম। আমি ও আমার ছেলেকে চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে। আমার ছেলের হাতে ৩০টির বেশি সেলাই গেছে। উল্টো পুলিশ মামলা দিয়ে তাকে আটক করল। এ কেমন বর্বরতা, কেমন বিচার। দেশে আইন বলতে কি কিছু নেই।
আব্দুর রহিমের জামাতা আব্দুল্লাহ আল রশীদ বলেন, আমি ঘটনার সময় ছিলাম না। শুধু শ্বশুর ও শ্যালককে দেখতে যাওয়ার কারণে আমাকেও আসামি করা হয়েছে। যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করল, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আমাদের ওপর মামলা দেওয়া হলো। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, সরকারি কর্মচারীদের ওপর হামলা ও ট্রেনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
.png)






