দ্বিগুণ টোল আদায়ের প্রতিবাদে নদীতে শ্রমিকদের অবস্থান

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ঘাট দাবি করে নদীপথে চলন্ত নৌযান থেকে দ্বিগুণ শুল্ক (টোল) আদায়ের প্রতিবাদে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার পাটলাই নদীতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন নৌ শ্রমিকরা।
গত ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া পাঁচ দিনের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির কারণে সুনামগঞ্জের নদীপথে কয়লা ও পাথর পরিবহন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। শত শত নৌযানের শ্রমিকরা পাটলাই নদীতে অবস্থান করলেও রোববার (৫ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত সমস্যার সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনরতরা।
জানা যায়, পাটলাই নদীর বিআইডব্লিউটিএ’র তাহিরপুরের বড়ছড়া ডাম্পের বাজার থেকে মহিয়াজুড়ী মৌজা হয়ে সুলেমানপুর পর্যন্ত ঘাটের গত অর্থবছরের ইজারাদার প্রতি টন কয়লা ও পাথর থেকে ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা করে শুল্ক ও বার্দিং ফি আদায় করেছেন। কিন্তু নতুন অর্থবছরের নতুন ইজারাদার প্রতিষ্ঠান ‘তাহিয়া স্টোন ক্রাশার’ চলন্ত নৌযান থেকে দ্বিগুণ হারে অর্থাৎ প্রতি টনে ৭০ টাকা করে শুল্ক দাবি করছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গত ১ জুলাই থেকে নৌযান শ্রমিকরা পণ্য পরিবহন বন্ধ রেখে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
নদীতে অবস্থানরত শ্রমিকরা জানান, প্রত্যন্ত হাওর এলাকায় নৌযানে অবস্থান করায় অনেকের খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের শ্রীপুর বাজারে গিয়ে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনতে হচ্ছে।
বাল্কহেডের মাঝি আনু মিয়া বলেন, প্রায় ২৭০ টন চুনাপাথর নিয়ে গত ১ জুলাই ডাম্পের বাজার থেকে ঢাকার কাঁচপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলাম। পাটলাই নদীর কামালপুর এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ’র ইজারাদার প্রতি টনে ৩৪ টাকা ৫০ পয়সার স্থলে ৭০ টাকা দাবি করছে। পূর্ব ঘোষণা ছাড়া দ্বিগুণ টোল চাওয়ায় আমরা নদীতেই নোঙর করে বসে আছি। প্রচণ্ড গরমে স্টিলের তৈরি বাল্কহেডের ওপর থাকা খুবই কষ্টকর।
সুনামগঞ্জ জেলা ট্রলার বাল্কহেড নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘাট ছাড়া নদীপথে চলন্ত নৌযান থেকে টোল আদায়ের কোনো নিয়ম নেই। তারপরও বিআইডব্লিউটিএ ইজারাদাররা টোল আদায় করে। ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতি টনে ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা রাখা হলেও ১ জুলাই থেকে ৭০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করলেও দুপুর পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইজারাদার প্রতিষ্ঠান ‘তাহিয়া স্টোন ক্রাশার’-এর মালিক ও বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাছির মিয়া বলেন, গত বছর ইজারামূল্য ছিল চার কোটি টাকা, এবার তা সাড়ে সাত কোটি টাকা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষই টোলের হার বাড়িয়েছে, এখানে আমার কিছু করার নেই। অতিরিক্ত টোল নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সোমবার বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ সুনামগঞ্জে আসবেন, জেলা প্রশাসন সবাইকে নিয়ে বৈঠকে বসবেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক বলেন, টোল আদায় ও শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচির বিষয়টি নিয়ে গত রাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য শ্রমিক ও ইজারাদারের সঙ্গে বসেছিলেন। সবার কথা শুনে বিষয়টির সমাধান খোঁজার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র সিলেটের আঞ্চলিক দপ্তরের উপপরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, নদীপথে আমাদের ইজারাকৃত ঘাট পয়েন্ট এলাকায় পাথর ও কয়লা প্রতি টনে ৭০ টাকা করে আদায় করতে পারবে ইজারাদার। এর বেশি আদায় ও ঘাট পয়েন্ট এলাকার বাইরে কোনো শুল্ক আদায়ের সুযোগ নেই। বিষয়টি দেখার জন্য আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছি। হঠাৎ করে দ্বিগুণ শুল্ক নির্ধারণ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন।




