পানি নামার পথ বন্ধ, জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত পাবনা শহর

এশিয়া পোস্ট নিউজ, পাবনা
পানি নামার পথ বন্ধ, জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত পাবনা শহর
পাবনা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ছবি : এশিয়া পোস্ট

টানা বর্ষণ ও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে পাবনা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক, অলিগলি ছাড়িয়ে বাসাবাড়িতে এখন হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি। এতে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষক নাজমুল হক জানান, গত ৪ জুলাই থেকে রোববার (১২ জুলাই) পর্যন্ত পাবনা জেলায় ১৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে বৃষ্টিপাত আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার শালগাড়িয়া, রাধানগর, দিলালপুর, নারায়ণপুর, আরিফপুর, মুজাহিদ ক্লাব, আতাইকুলা রোড, গোবিন্দা, কালাচাঁদপাড়া, নূরপুর, মনসুরাবাদ আবাসিক এলাকা, ছাতিয়ানী, বাজিতপুর রোড বাইলেন, বাবলাতলা, নয়নামতি, যুগিপাড়া, হাসপাতাল রোড, মহিষের ডিপো, অনন্ত পাড়ার কলোনি, রূপকথা সিনেমা হল রোড, বীণাপাণি সিনেমা হল রোড, খাদিজাতুল কোবরা মহিলা মাদ্রাসা রোড এবং অনন্ত এলাকার আবুল কাশেম মহিলা মাদ্রাসা পাড়াসহ বেশ কিছু সড়ক পানির নিচে ডুবে আছে।

ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো শহর তলিয়ে যায়। আরিফপুর এলাকার বাসিন্দা খোকন হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও কোনো কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। দীর্ঘদিন পৌরসভার মেয়র না থাকায় নাগরিক ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।’

কালাচাঁদপাড়ার বাসিন্দা মনিরা ইয়াসমিন জানান, গত ৫ দিন ধরে তাদের ঘরের খাটের নিচে পানি হাবুডুবু খাচ্ছে। রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন সব কাজ বন্ধ। পানিতে ময়লা-আবর্জনা মিশে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেঙ্গু ও পানিবাহিত রোগের আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। মুজাহিদ ক্লাব এলাকার বাসিন্দা মো. রমজান আলী বলেন, ‘মুজাহিদ ক্লাব থেকে বুলবুল কলেজ পর্যন্ত সড়কে বর্তমানে কোমরসমান পানি। অটোরিকশা বা ভ্যান চলার উপায় নেই, সাধারণ মানুষ নৌকা দিয়ে যাতায়াত করছেন।’

পাবনার লতিফ গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার অচিন্ত কুমার ঘোষ বলেন, ‘পাবনা পৌর এলাকার সব পানি নিষ্কাশন হয় মূলত দোহারপাড়া ও আরিফপুরসংলগ্ন বুড়িদাহ কালভার্টের নিচের খাল দিয়ে। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের ওই প্রধান খালটি দখল ও দূষণে সরু হয়ে যাওয়ায় পানি নামতে পারছে না। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য খালটি দখলমুক্ত ও খনন করা জরুরি।’

পাবনা পৌর প্রশাসক খাইরুল ইসলাম বলেন, আমরা জলাবদ্ধ এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করছি। ড্রেনগুলো সবসময় পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করা হয়। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য কিছু ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার এবং নতুন ড্রেন নির্মাণ করতে হবে। আশা করছি দ্রুত এর সমাধান হবে।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ইছামতি নদী ও সংযোগ খাল খনন প্রকল্পের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এই নদী ও সংযোগ খালগুলোর খনন কাজ শেষ হলে পাবনা পৌরসভাসহ জেলাজুড়ে আর কোনো জলাবদ্ধতা থাকবে না।


বিষয় :পাবনা