একই সড়কে বারবার জোড়াতালি, ২৪ ঘণ্টায় উঠে গেল পিচ

মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল, নোয়াখালী
একই সড়কে বারবার জোড়াতালি, ২৪ ঘণ্টায় উঠে গেল পিচ
পিচ উঠে যাওয়ায় পানি জমে থাকা সড়ক। ছবি: এশিয়া পোস্ট

নোয়াখালী পৌর এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হাসপাতাল রোড’ সংস্কারের নামে চলছে সরকারি টাকা লুটপাটের উৎসব। রাতের আঁধারে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে জোড়াতালির কাজ করায় এক সপ্তাহও টিকছে না সড়কটি। সবশেষ গত ৩ জুলাই সড়কের একটি অংশে পিচ ঢালাই (সিলকোট) করা হলেও, ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই উঠে যাচ্ছে সব পিচ। এতে স্থানীয় বাসিন্দা এবং চিকিৎসা নিতে আসা হাজার হাজার মানুষের ক্ষোভ ও ভোগান্তি এখন চরমে।

পৌরসভা সূত্র অনুযায়ী, ১ হাজার ৫০ মিটার দীর্ঘ এই সড়কটির দুই পাশে রয়েছে শতাধিক সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক। ফলে জেলাজুড়ে চিকিৎসাসেবার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ ২০১৮ সালে ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকারও বেশি ব্যয়ে মেসার্স আব্দুল খালেক ট্রেডার্স সড়কটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ের সড়কের মাঝে বড়ো বড়ো গর্ত তৈরি হয়। তাতে শুরু হয় ভোগান্তি।

নথি বলছে, সড়কটি সচল রাখতে গত কয়েক বছরে বারবার সংস্কারের নামে লাখ লাখ টাকা ঢালা হয়েছে। প্রথমবার ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মেসার্স আব্দুল খালেক ট্রেডার্সকে দিয়েই আবার ২১ লাখ ২৯ হাজার টাকার সংস্কার করা হয়। বছর না ঘুরতেই সড়ক বেহাল হওয়ায় দ্বিতীয়বার ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মেসার্স রহিম অ্যান্ড সন্সকে দিয়ে ২০ লাখ ৯৫ হাজার টাকার কার্পেটিং করা হয়। এরপর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শারমিন ডেইরি অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজ ৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকার সংস্কার কাজ করে।

পিচ উঠে গর্ত হওয়া সড়ক। ছবি: এশিয়া পোস্ট
পিচ উঠে গর্ত হওয়া সড়ক। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সর্বশেষ চলতি অর্থবছরে এবার সংস্কার ব্যয় এক লাফে কয়েক গুণ বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭৫ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে সড়কটিকে ৩টি প্যাকেজে ভাগ করে মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স, মেসার্স রুবেল ট্রেডিং করপোরেশন ও মেসার্স মারিয়া ট্রেডার্সকে কাজ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার প্যাকেজে ১১৬ মিটার ইউনি-ব্লক ও ২০৪ মিটার সিলকোটের কাজ পায় ‘মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স’।

অভিযোগ উঠেছে, গত ৩ জুলাই অত্যন্ত নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করে রাতের আঁধারে সিলকোটের কাজ শেষ করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু পরদিনই পুরো রাস্তার পিচ কার্পেটের মতো উঠে যায়।

মাইজদী হাউজিংয়ের স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল বলেন, প্রতি বছর একটি সড়ক সংস্কারের নামে সরকারি টাকা হরিলুট করা হচ্ছে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার অসুস্থ রোগী যাতায়াত করে, অথচ দেখার কেউ নেই।

হাতিয়া থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আব্দুল হাই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সারা বছরই দেখি এই সড়কে সংস্কার কাজ চলে। কিন্তু কখনোই সড়কটি পরিপূর্ণ চলাচলের উপযোগী পাই না। রোগীদের নিয়ে এই রাস্তায় চলাচল করা নরকযন্ত্রণার মতো।

কাজের এই বেহাল অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. হানিফ এক বিস্ফোরক তথ্য দেন। এশিয়া পোস্টকে তিনি জানান, টেন্ডার তিনি পেলেও কাজটি নিজে না করে অন্য এক পার্টিকে দিয়ে করাচ্ছেন। তবে দায় এড়াতে তিনি বৃষ্টির অজুহাত দিয়ে বলেন, বৃষ্টির কারণে রাস্তায় কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি শেষ হলে আমরা সেগুলো আবার সংস্কার করে দেব।

সড়কজুড়ে এমন হরিলুটের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বেলাল আহম্মেদ খাঁন এশিয়া পোস্টকে জানান, অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কাজটি দ্রুত সময়ে সংশোধনের জন্য আমরা তাদেরকে জানিয়েছি। চিঠির উত্তরে তারা কাজটি দ্রুত করে দেবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছে।

বিষয় :নোয়াখালী