Advertisement

ভুল চিকিৎসায় অচল ফারজানা, নবজাতককে কোলে নেওয়ার শক্তিও নেই

এশিয়া পোস্ট নিউজ, লক্ষ্মীপুর
ভুল চিকিৎসায় অচল ফারজানা, নবজাতককে কোলে নেওয়ার শক্তিও নেই
ফারজানা ও তার পরিবার। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নতুন জীবনের অপেক্ষায় ছিলেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের অটোরিকশাচালক নুর হোসেনের মেয়ে ফারজানা আক্তার। কিন্তু যে দিনটি তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের হওয়ার কথা ছিল, ভুল চিকিৎসার অভিযোগে সেই দিনটিই রূপ নিয়েছে তীব্র অন্ধকারে।

পরিবারের অভিযোগ, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় ভুলভাবে অ্যানেসথেসিয়া প্রযোগের কারণে কোমরের নিচ থেকে অবশ হয়ে যায় ফারজানার শরীর। তিনি এখন দুই পায়ে সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতগ্রস্ত। নিজের পায়ে দাঁড়ানো তো দূরের কথা, তিন মাস বয়সী কোলের নবজাতক সন্তানকেও আর তুলে নিতে পারেন না তিনি।

২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার কালীরচর গ্রামের কৃষক রিয়াজের সঙ্গে ফারজানার বিয়ে হয়। ২০২৫ সালের ১৫ মার্চ তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু মাতৃত্বের সেই পরম আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নেয় দুঃস্বপ্নে। স্বজনদের দাবি, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় প্রথমবার অ্যানেসথেসিয়া কার্যকর না হওয়ায় চিকিৎসকেরা দ্বিতীয়বার ইনজেকশন দেন। এরপর দীর্ঘ সময় অচেতন থাকার পর জ্ঞান ফিরলেও তার কোমরের নিচের অংশ আর সচল হয়নি। ধীরে ধীরে ফারজানার দুই পা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে তার চোখ ও কানেও নতুন জটিলতা দেখা দেয়।

সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হলেও ফারজানার দুই পায়ের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। তবে চোখ ও কানের সমস্যার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে শয্যাশায়ী জীবন কাটছে তার।

ফারজানার মা ফাতেমা বেগম বলেন, মেয়ের চিকিৎসার জন্য গরু বিক্রি করেছি, জমিও বিক্রি করে দিয়েছি। ইতোমধ্যে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু মেয়ের কোনো উন্নতি হয়নি। সামনে আরও অনেক চিকিৎসার প্রয়োজন, তবে সেই অর্থ জোগাড় করার সামর্থ্য আমাদের আর নেই।

ফারজানার বড় বোন আঁখি আক্তার বলেন, আমার বোন নিজের কলিজার সন্তানকেও কোলে তুলে নিতে পারে না। চিকিৎসকেরা বলেছেন দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা করালে সে সুস্থ হতে পারে। কিন্তু এত টাকা আমাদের পক্ষে জোগাড় করা মোটেও সম্ভব নয়।

এদিকে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম এ রহমান সুমন। তিনি বলেন, নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পেলে আমরা ঘটনার বিচার চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করব।

ভুল চিকিৎসার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসক ও মালিক ডা. রাকিবুল আহসান। তিনি ক্যামেরার সামনে বা আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।