ছয় মাস চিকিৎসার পর সুন্দরবনে ফিরল বাঘিনী

শিকারিদের পেতে রাখা ফাঁদে গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসা শেষে একটি রয়েল বেঙ্গল বাঘিনীকে পূর্ব সুন্দরবনের গভীরে অবমুক্ত করেছে বন বিভাগ।
রোববার (১২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক বনাঞ্চলের একটি নিরাপদ এলাকায় বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করা হয়।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের পর বাঘিনীটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতেই তাকে আজ বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, সে স্বাভাবিকভাবে শিকার করে সুন্দরবনের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে।
তিনি আরও জানান, অবমুক্তির পর অন্তত এক বছর বাঘিনীটির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই জন্য বন বিভাগের চারটি বিশেষজ্ঞ দল কাজ করবে। পাশাপাশি বনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ক্যামেরা ট্র্যাপ স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে বাঘিনীটির চলাফেরা ও আচরণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা যায়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল এলাকায় শিকারিদের পেতে রাখা হরিণ ধরার ফাঁদে আটকা পড়ে বাঘিনীটি। পরদিন গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়। ফাঁদে আটকে বাঘিনীটির বাম পায়ে প্রায় তিন ইঞ্চি গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল। ক্ষতস্থানে পচন ধরার পাশাপাশি পায়ের কয়েকটি পেশি ও শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে অ্যান্টিবায়োটিক, নিয়মিত চিকিৎসা এবং নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে ছয় মাসে তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা হয়। বন বিভাগের তথ্যমতে, বাঘিনীটির চিকিৎসা ও পরিচর্যায় প্রতি মাসে দুই লাখ টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে।




