পাচারের সময় ৫৭ বস্তা সরকারি সার জব্দ

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে অবৈধভাবে অন্য এলাকায় পাচারের সময় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ৫৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের জয়াখালী চেয়ারম্যানবাড়ি মোড় এলাকা থেকে সারগুলো জব্দ করা হয়। কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে সারগুলো জব্দ করা হয়।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, বিএডিসির সার কেবল লাইসেন্সধারী ডিলাররা সরকারি কোটার মাধ্যমে উত্তোলন করে প্রান্তিক কৃষকদের কাছে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করতে পারেন।
অভিযোগ রয়েছে, কৈখালী ইউনিয়নের বোশখালী গ্রামের বাসিন্দা ও আরিক এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আমিনুর রহমান নিজ নামে বিএডিসির ডিলার লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও সাতক্ষীরার রোজিনা খাতুনের নামে ইস্যুকৃত ‘শাপলা এন্টারপ্রাইজ’ এর লাইসেন্স ব্যবহার করে সার উত্তোলন করেন। পরে স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি না করে অধিক দামে অন্য ইউনিয়নে বিক্রির উদ্দেশ্যে সার পাচার করা হচ্ছিল।
কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম বলেন, আমিনুর রহমানের নিজস্ব বিএডিসির ডিলার লাইসেন্স নেই। তিনি অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সার উত্তোলন করছেন। ইউনিয়নে ‘শাপলা এন্টারপ্রাইজ’-এর কোনো ট্রেড লাইসেন্স কিংবা সার সংরক্ষণের গুদামও নেই। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার অন্য ইউনিয়নে সার নেওয়ার সময় ৫৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক হাফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, বিএডিসির ডিলারের কাছ থেকে সার কিনতে গেলে কৃষকদের সার নেওয়ার সঙ্গে কীটনাশকও কিনতে বাধ্য করা হয়। এ কারণে অনেক সময় বেশি দামে অন্য স্থান থেকে সার কিনতে হয়।
এ বিষয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে আমিনুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
শ্যামনগর উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দিবাশীষ দাস বলেন, চেয়ারম্যানের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক বলেন, বিষয়টি জানার পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
.png)






