বালু পরিবহন বন্ধে সরকারি রাস্তা কেটে ফেলার অভিযোগ

সরকারের বৈধ বালুমহালের বালু পরিবহন বন্ধ করতে ১৬ ফুট প্রসস্থ সরকারি রাস্তা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার খবর পেয়ে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে রাস্তা কাটায় ব্যবহৃত ট্রাক্টর ও চালককে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (২৮ জুন) দিবাগত রাতে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের গজপুরী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, করতোয়া নদীর তেলীপাঞ্জা ঘাট থেকে ট্রাক্টরে করে বালু গজপুরী এলাকায় আনা হতো। বালু পরিবহনে ব্যবহৃত ওই রাস্তাটিতে গত দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে এলাকাবাসী চলাচল করছে।
সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তি বালু পরিবহনে বাধা দিতে রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রথমে কোদাল দিয়ে রাস্তা কেটে নিচু করেন। পরে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে রাস্তাটি অন্তত ১০ ফুট নিচু করে ফেলে। এতে রাস্তা ও আবাদী জমি সমান হয়ে যায়।
এই ঘটনায় রবিবার দিবাগত রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টহল দল ও স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এসময় অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে বালুমহালের ইজারাদারের লোকজন ও স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে ব্যবহৃত ট্রাক্টরটিকে চালকসহ আটক করে। পরে ট্রাক্টরসহ চালককে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
আটক ট্রাক্টরচালক ইসরাফিল দাবি করেন, রাতে তাকে বাসা থেকে ডেকে ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ৩০ জনকে কোদাল দিয়ে রাস্তা কাটতে দেখেন। তিনি প্রথমে রাস্তা চাষ করতে রাজি না হলেও উপস্থিত ব্যক্তিরা সব বিষয় ‘দেখে নেওয়ার’ আশ্বাস দিলে তিনি রাস্তায় ট্রাক্টর চালান। এ সময় তিনি ঘটনায় জড়িত আব্দুল হাই, রফিক, আরফানসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন এবং ৩০-৩৫ জন ব্যক্তি উপস্থিত থাকার কথাও জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা সহিদুল ও মজনু বলেন, দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে ওই রাস্তা দিয়ে ট্রাক্টরে করে বালু পরিবহন হয়ে আসছে। এখন রাস্তা কেটে দেওয়ায় শুধু বালু পরিবহনই নয়, কৃষিজমিতে সার, বীজ ও কীটনাশক নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে।
সোমবার (২৯ জুন) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দেবীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ বিন জিয়া। এ সময় স্থানীয় ওমর আলী বলেন, ট্রাক্টর চলাচলে ফসলের ক্ষতি, গবাদিপশু চলাচলে সমস্যা এবং শিশুদের দুর্ঘটনার ঝুঁকির কারণেই এলাকাবাসী রাস্তা কেটেছেন। তিনি বলেন, এলাকার স্বার্থে দশ চাকার ট্রাক ও ডাম্প ট্রাক বন্ধ করতে সবাই মিলে রাস্তা কাটা হয়েছে।
তেলীপাঞ্জা ঘাটের ইজারাদার সরকার ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে ঘাট ইজারা নিয়েছি। কিন্তু বালু পরিবহনে বাধা দেওয়ায় প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হচ্ছে। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে এ বাধা সৃষ্টি করছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু ব্যক্তির নাম উঠে আসে, যারা প্রতিনিয়ত বালু পরিবহন বন্ধে বাধা প্রদান ও রাস্তা কেটে ফেলার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সদর ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডল, সাধারণ সম্পাদক আমজাদ, দপ্তর সম্পাদক বাহাদুর, ওয়ার্ড কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক সুরুজ ছাড়াও মোতালেব ও আব্দুল হাইয়ের নাম রয়েছে। যদিও রাজনৈতিক কারণে নয়, বরং এলাকার স্বার্থেই তাদের এই অবস্থান বলে তারা দাবি করেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ বিন জিয়া বলেন, সরকারি রাস্তা কেটে ব্যক্তিগত জমিতে পরিণত করার চেষ্টা অপরাধ। আপাতত রাস্তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে নিয়মিত মামলা করা হবে। এছাড়া উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানান, আটক ট্রাক্টরচালককে আজ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।






