Advertisement

শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশপ্রধান ও সাবেক প্রতিরক্ষা সচিবের মৃত্যুদণ্ড

এশিয়া পোস্ট নিউজ
শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশপ্রধান ও সাবেক প্রতিরক্ষা সচিবের মৃত্যুদণ্ড
শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশ প্রধান পুজিত জয়াসুন্দরা। ছবি: সংগৃহীত

২০১৯ সালের ইস্টার সানডেতে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলায় দায়ে সাবেক পুলিশপ্রধান ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিবকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন শ্রীলঙ্কান আদালত। ওই আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।

শনিবার (০১ আগস্ট) অ্যাসোসিয়েট প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে ইস্টার সানডেতে ইসলামিক স্টেট তথা আইএসআইএসের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে সংঘঠিত হামলার ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্তদের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সাবেক পুলিশপ্রধান পুজিত জয়াসুন্দরা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব হেমাসিরি ফার্নান্দো।

গতকাল শুক্রবার দেশটির তিন সদস্যের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ডাদেশ দেন। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে চাইলে তারা আপিল করতে পারবেন। আপিলের অধিকার তাদের রয়েছে।

দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডের অর্থ সাধারণত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। কারণ শ্রীলঙ্কায় ১৯৭৬ সাল থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ রয়েছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুঢ়া কুমারা দিশানায়েকে এই স্থগিতাদেশ বজায় রাখার পক্ষে।

২০১৯ সালে প্রায় একই সময়ে তিনটি পর্যটন হোটেল ও তিনটি গির্জায় (দুটি ক্যাথলিক ও একটি প্রোটেস্ট্যান্ট) বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ৪২ জন বিদেশি নিহত হন।

দেশটির একটি সংসদীয় কমিটি তদন্ত করে দেখেছে যে, এই হামলাগুলো সম্পর্কে বারবার পাওয়া গোয়েন্দা সতর্কবার্তা সত্ত্বেও পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

আদালত প্রথমে জয়াসুন্দরার বিরুদ্ধে ও পরে দিনের শেষে ফার্নান্দোর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে। মৃত্যুদণ্ডটি সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্তে দেওয়া হয়েছে।

তিন সদস্যের হাইকোর্ট বেঞ্চের বিচারকদের মধ্যে দুজন মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পক্ষে অবস্থান নেন। অন্যজন ভিন্নমত পোষণ করে যুক্তি দেন যে, অভিযুক্ত দুজনেরই মুক্তি দেওয়া উচিত।

শ্রীলঙ্কা-ভিত্তিক দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে এই বোমা হামলা চালানোর জন্য দায়ী করা হয়েছে। ওই হামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত বলে মনে করা ব্যক্তিদের কেউই এখন জীবিত নেই। হামলাকারীদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য পৃথক বিচারকার্য চলছে।

শ্রীলঙ্কার ক্যাথলিক চার্চ দাবি করেছে যে, এখন পর্যন্ত হামলাকারী হিসেবে যাদের চিহ্নিত করা হয়েছে, তারা এই বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী নয়। বরং এর পেছনে একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ছিল।