হেপাটাইটিসের সতর্কবার্তা দিচ্ছে শরীর, চিনে নিন লক্ষণগুলো

হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হলে শুরুতে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব, জ্বর, পেটের ডান পাশে ব্যথা, গা বা চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া এবং গাঢ় রঙের প্রস্রাবের মতো কিছু সতর্কবার্তা দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণ বা হজমের সমস্যার সঙ্গে মিল থাকায় অনেকেই গুরুত্ব দেন না।
কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিসের প্রাথমিক লক্ষণগুলো দ্রুত শনাক্ত করা গেলে সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব, যা লিভারের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি, সিরোসিস, লিভার ফেইলিওর এমনকি কিছু ক্ষেত্রে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকিও কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই শরীরের এসব পরিবর্তনকে অবহেলা না করে প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চলুন আগে জেনে নিই হেপাটাইটিস কী।
হেপাটাইটিস হলো লিভারের প্রদাহ। এটি সাধারণত হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি বা ই ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে হয়। কারও ক্ষেত্রে সংক্রমণ স্বল্পমেয়াদি হতে পারে, আবার হেপাটাইটিস বি ও সি দীর্ঘদিন শরীরে থেকে দীর্ঘমেয়াদি লিভারের ক্ষতি করতে পারে।
প্রাথমিক যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
হেপাটাইটিসের শুরুতে লক্ষণগুলো সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতো হওয়ায় অনেকেই গুরুত্ব দেন না। যেমন অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বল লাগা, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব বা বমি, হালকা জ্বর, শরীর ও পেশিতে ব্যথা এবং পেটের ডান দিকের ওপরের অংশে ব্যথা বা অস্বস্তি।
এসব উপসর্গ কয়েক দিন ধরে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
রোগ বাড়লে যেসব লক্ষণ দেখা দেয়
লিভারের কার্যক্ষমতা কমে গেলে আরও কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন-
- চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া
- গাঢ় রঙের প্রস্রাব
- ফ্যাকাশে বা সাদাটে পায়খানা
- সারা শরীরে চুলকানি
এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
- জন্ডিস
- বারবার বমি হওয়া
- অতিরিক্ত দুর্বলতা
- পেটের ডান পাশে তীব্র বা স্থায়ী ব্যথা
- বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক ঘুম ঘুম ভাব বা জ্ঞান কমে যাওয়া
- মাড়ি, নাক বা শরীরের অন্য কোথাও অস্বাভাবিক রক্তপাত
এগুলো গুরুতর লিভার প্রদাহ বা তীব্র লিভার বিকলের লক্ষণ হতে পারে।
কারা লক্ষণ না থাকলেও পরীক্ষা করাবেন?
অনেকের শরীরে কোনো উপসর্গ না থাকলেও হেপাটাইটিস থাকতে পারে। তাই নিচের ব্যক্তিদের পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।
- দূষিত খাবার বা পানি গ্রহণের ইতিহাস থাকলে
- অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্কের ইতিহাস থাকলে
- একই সুচ বা সিরিঞ্জ ব্যবহার করলে
- স্বাস্থ্যসেবাকর্মী হিসেবে রক্তের সংস্পর্শে এলে
- পরিবারের কারও হেপাটাইটিস বি বা সি থাকলে
সম্ভাব্য সংস্পর্শের পর দ্রুত পরীক্ষা করলে সংক্রমণ শুরুতেই শনাক্ত করা সম্ভব।
কীভাবে হেপাটাইটিস প্রতিরোধ করবেন?
হেপাটাইটিসের ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি বিষয় মেনে চলা জরুরি।
- হেপাটাইটিস বি-এর টিকা গ্রহণ করুন।
- নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করুন।
- খাবার প্রস্তুত ও খাওয়ার আগে হাত ধুয়ে নিন।
- নিরাপদ যৌন আচরণ অনুসরণ করুন।
- একই সুচ বা সিরিঞ্জ একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করবেন না।
- রক্ত নেওয়ার আগে সেটি নিরাপদভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে কি না নিশ্চিত করুন।
হেপাটাইটিস অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই বছরের পর বছর লিভারের ক্ষতি করতে পারে। তাই অস্বাভাবিক ক্লান্তি, জন্ডিস, গাঢ় প্রস্রাব বা পেটের ডান পাশে ব্যথার মতো লক্ষণকে অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু করলে লিভার সিরোসিস, লিভার বিকল হওয়া এবং লিভার ক্যানসারের মতো গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সূত্র: এনডিটিভি
.png)





