ডায়াবেটিস রোগীর জন্য কোন মাছ বেশি উপকারী

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অনেকেরই একটি সাধারণ প্রশ্ন, মাছ খেলে কি রক্তে শর্করা বাড়ে? আবার কেউ জানতে চান, সব মাছ কি সমান উপকারী?
পুষ্টিবিদদের মতে, মাছ এমন একটি খাবার যাতে কার্বোহাইড্রেট প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে মাছ সরাসরি রক্তে শর্করা বাড়ায় না। বরং এতে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
মাছ কি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো?
মাছে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, আয়োডিন, সেলেনিয়াম এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি। বিশেষ করে সামুদ্রিক তেলযুক্ত মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভালো উৎস। এই পুষ্টিগুলো হৃদ্যন্ত্র, মস্তিষ্ক এবং রক্তনালির স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের হৃদ্রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকায় নিয়মিত মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কোন মাছগুলো বেশি উপকারী
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ তেলযুক্ত মাছ সবচেয়ে উপকারী। এর মধ্যে রয়েছে ইলিশ, সার্ডিন, ম্যাকারেল, হেরিং, স্যামন ও ট্রাউট।
বাংলাদেশে সহজলভ্য মাছের মধ্যে ইলিশ, কোরাল, রুই, কাতলা, পাবদা, টেংরা বা অন্যান্য দেশি মাছও স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। যদিও সব মাছে ওমেগা-৩-এর পরিমাণ এক নয়, তবুও প্রায় সব মাছই ভালো মানের প্রোটিনের উৎস।
শুধু মাছের ধরন নয়, রান্নার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মাছের উপকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে এটি কীভাবে রান্না করা হচ্ছে তার ওপর। ডুবো তেলে ভাজা মাছের পরিবর্তে হালকা তেলে রান্না, ঝোল, ভাপা, গ্রিল বা বেক করা মাছ উপকারী।
এসব পদ্ধতি তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর। অতিরিক্ত তেল, ঘি বা মাখন ব্যবহার করলে খাবারের ক্যালোরি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেড়ে যেতে পারে।
মাছ কি আসলেই কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে এবং হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে এটি কোনো ওষুধের বিকল্প নয় এবং একা কোলেস্টেরলের সব সমস্যা দূর করতে পারে না।
তাই কোলেস্টেরল বা ডায়াবেটিস থাকলে শুধু মাছের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
সপ্তাহে কতবার মাছ খাওয়া উচিত
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা সপ্তাহে অন্তত দুইবার মাছ, বিশেষ করে তেলযুক্ত মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেয়। এতে প্রয়োজনীয় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া সহজ হয়। তবে প্রতিদিন একই ধরনের মাছ খাওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের মাছ খাওয়া ভালো।
যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
ডায়াবেটিস থাকলে মাছ খাওয়ার সময় কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখুন।
- অতিরিক্ত ভাজা মাছ এড়িয়ে চলুন।
- বেশি লবণ দিয়ে সংরক্ষিত বা প্রক্রিয়াজাত মাছ কম খান।
- মাছের সঙ্গে পর্যাপ্ত শাকসবজি রাখুন।
- ভাত বা অন্যান্য শর্করাজাতীয় খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
- খাবারের পরিমাণ ও ক্যালোরির দিকেও নজর দিন।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কোনো একটি খাবারই জাদুকরি সমাধান নয়। তবে মাছ একটি পুষ্টিকর খাবার, যা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। সঠিক পরিমাণে, স্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করা মাছ নিয়মিত খেলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি হৃদ্স্বাস্থ্যও ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। এর সঙ্গে নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপনই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সূত্র: নিউজ ১৮





