কোন ৬ সাপ্লিমেন্ট সত্যিই কার্যকর, জানালেন বিশেষজ্ঞ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
কোন ৬ সাপ্লিমেন্ট সত্যিই কার্যকর, জানালেন বিশেষজ্ঞ
ভুলভাবে সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। ছবি : সংগৃহীত

বর্তমানে ফার্মেসিতে গেলেই বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখলেই দেখা যায় নানা ধরনের সাপ্লিমেন্টের বিজ্ঞাপন। কোথাও বলা হচ্ছে এগুলো শক্তি বাড়ায়, কোথাও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা উন্নত করার দাবি করা হচ্ছে। আবার কোনোটি পেশি গঠনে সাহায্য করে, কোনোটি ভালো ঘুমের আশ্বাস দেয়।

তবে বাস্তবতা হলো, সব সাপ্লিমেন্ট সবার জন্য প্রয়োজনীয় নয়। অনেকেই প্রয়োজন না থাকলেও বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্ট কিনে খেতে শুরু করেন। এতে যেমন অপ্রয়োজনীয় খরচ হয়, তেমনি ভুলভাবে ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

ভারতের এইমস, হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি, যিনি এমডি ও এমপিএইচ ডিগ্রিধারী, সম্প্রতি একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে গবেষণায় সমর্থিত এমন ছয়টি সাপ্লিমেন্টের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, সঠিক কারণে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করলে এগুলো উপকার করতে পারে।

ম্যাগনেসিয়াম

ডা. শেঠির তালিকার প্রথমেই রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম। তার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৪০ কোটি মানুষ পর্যাপ্ত ম্যাগনেসিয়াম পান না।

যাদের শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি রয়েছে, তাদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি ভালো ঘুম, কোষ্ঠকাঠিন্য, মাইগ্রেনের সমস্যা এবং স্বাস্থ্যকর রক্তচাপ বজায় রাখতেও এটি সহায়ক হতে পারে।

তিনি জানান, ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইডের তুলনায় ম্যাগনেসিয়াম গ্লাইসিনেট ও ম্যাগনেসিয়াম সাইট্রেট শরীরে তুলনামূলক ভালোভাবে শোষিত হয়।

ভিটামিন বি১২

ভিটামিন বি১২ বিশেষ করে নিরামিষভোজী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যারা মেটফরমিন বা দীর্ঘদিন ধরে পাকস্থলীর অ্যাসিড কমানোর ওষুধ সেবন করেন, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ডা. শেঠির মতে, গবেষণায় দেখা গেছে দীর্ঘদিন মেটফরমিন ব্যবহারকারীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের শরীরে ভিটামিন বি১২-এর মাত্রা কমে যেতে পারে। তাই নিয়মিত পরীক্ষা করে এর মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

ভিটামিন ডি

হাড়, পেশি এবং রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার সুস্থতার জন্য ভিটামিন ডি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডা. শেঠির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ ভিটামিন ডির ঘাটতিতে ভুগছেন। তাই প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে এই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে।

ওমেগা-৩

খাদ্যতালিকায় যদি নিয়মিত চর্বিযুক্ত সামুদ্রিক মাছ না থাকে, তাহলে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট বিবেচনা করা যেতে পারে।

ডা. শেঠি বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা প্রায় ২২ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ক্রিয়েটিন মনোহাইড্রেট

ক্রিয়েটিন মনোহাইড্রেট খেলাধুলা ও ব্যায়ামের সঙ্গে সম্পর্কিত সবচেয়ে বেশি গবেষণা হওয়া সাপ্লিমেন্টগুলোর একটি।

ডা. শেঠির মতে, ৫০ বছরের কম বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে নিয়মিত রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিংয়ের সঙ্গে ক্রিয়েটিন গ্রহণ করলে শুধু ব্যায়াম করার তুলনায় পায়ের পেশির শক্তি আরও বেশি বাড়তে পারে।

সাইলিয়াম হাস্ক বা ইসবগুলের ভুসি

অনেক মানুষই প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পরিমাণ খাদ্যআঁশ গ্রহণ করতে পারেন না। এই ঘাটতি পূরণে সাইলিয়াম হাস্ক বা ইসবগুলের ভুসি কার্যকর হতে পারে।

ডা. শেঠির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১০ গ্রাম সাইলিয়াম হাস্ক গ্রহণ করলে এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। পাশাপাশি এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বজায় রাখতেও সাহায্য করে।

সাপ্লিমেন্টের বিকল্প নেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের

ডা. সৌরভ শেঠির মূল বার্তা হলো, সাপ্লিমেন্ট উপকারী হতে পারে, তবে সেটি তখনই, যখন সত্যিই প্রয়োজন হয় এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ব্যবহার করা হয়।

তিনি মনে করিয়ে দেন, সাপ্লিমেন্ট কোনো অলৌকিক ওষুধ নয় এবং সুস্থ থাকার শর্টকাটও নয়। দীর্ঘমেয়াদে ভালো স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের বিকল্প নেই। আর শরীরে কোনো নির্দিষ্ট পুষ্টির ঘাটতি থাকলে, সেই ঘাটতি পূরণের জন্যই সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা উচিত।

সূত্র: এনডিটিভি