Advertisement

অজুর পর পানি না মুছলে সওয়াব পাওয়া যাবে?

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
অজুর পর পানি না মুছলে সওয়াব পাওয়া যাবে?
অজু করছেন এক মুসল্লি। ছবি: সংগৃহীত

নামাজের আগে অজু করা ফরজ। অজু করা গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এতে সওয়াব পাওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, যখন তোমরা নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে, তখন তোমাদের মুখ ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে এবং মাথা মাসেহ করবে আর পা টাখনু (গ্রন্থি) পর্যন্ত ধৌত করবে।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৬)

অজুর ফরজ চারটি। যথা—সমস্ত মুখ ধোয়া, উভয় কান কনুইসহ ধোয়া, গোড়ালিসহ দুই পা ধৌত করা ও মাথার চার ভাগের এক ভাগ মাসাহ (পানি দিয়ে স্পর্শ) করা। এই চারটির কোনো একটা বাদ পড়লে অজু হবে না। পরিপূর্ণভাবে এই চার কাজ করলে অজু হয়ে যায়।

অজুর পর শরীরের পানি মোছা বা শুকনো নিয়ে আমাদের সমাজে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকে মনে করেন, অজুর পানি মুছে ফেললে সওয়াব কমে যায়। কাউকে বলতে শোনা যায়, হজরত মুহাম্মদ (সা.) অজুর পর পানি মুছতেন না।

ইসলাম বিশেষজ্ঞরা বলেন, অজুর পর রুমাল, তোয়ালে, পরিষ্কার কাপড় বা হাত দিয়ে পানি মোছা জায়েজ আছে। এটাকে গুনাহ বা মাকরুহ মনে করার কোনো কারণ নেই। অজুকারী তার ইচ্ছামতো চাইলে মুছতে পারবে বা স্বাভাবিক অবস্থায় রেখে দিতে পারবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) অজুর পর পানি মুছেছেন। কখনো কখনো মোছেননি।

সালমান ফারসি (রা.) বলেন, ‘একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) অজু করেন। এরপর তিনি তার শরীরের পশমী জুব্বা উল্টে নিয়ে চেহারা মুছেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৫১৪৩)

আরেক হাদিসে কায়েছ বিন সাআদ (রা.) বলেন, ‘আমাদের কাছে রাসুলুল্লাহ (সা.) এলেন। আমরা তাঁর জন্য পানির ব্যবস্থা করলাম। তিনি গোসল করলেন। তখন আমরা তাঁকে হলুদ রঙের একটি চাদর এনে দিলাম। তিনি সেটি গায়ে জড়িয়ে নিলেন। (ফলে সেটি শরীরের পানি মোছার জন্য রুমালের কাজ দিল)। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪৬৬)

অজু-গোসলের পর মহানবী (সা.) কাপড় দিয়ে শরীর মোছেননি—এমন হাদিসও আছে। উম্মুল মুমিনিন মায়মুনা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন ফরজ গোসল করছিলেন, তখন (শরীর মোছার জন্য) একটি কাপড় এনে দিলাম। তিনি তা ফেরত দিলেন এবং শরীরের পানি (হাত দিয়ে) ঝাড়তে লাগলেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৭৪)

হাদিসে আছে, অজুর মাধ্যমে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধোয়ার সময় গুনাহগুলো পানির সঙ্গে বের হয়ে যায়। অনেকে এই হাদিসের ভিত্তিতে পানি না মোছাকে উত্তম মনে করেন। তবে আলেমদের মতে, পানির সঙ্গে গুনাহ শরীর থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার পর সেই পানি শরীরে মেখে রাখা বা মোছার সঙ্গে সওয়াব কমা-বাড়ার সম্পর্ক নেই।

ইসলাম বিশেষজ্ঞ ও আলোচক ড. সাইফুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) পানি মুছতেন না, কারণ তিনি অনেক কম পানি ব্যবহার করতেন। তিনি অজু করেছেন মক্কা বা মদিনাতে। সেখানকার বাতাস শুষ্ক। সেখানে দ্রুতই পানি শুকিয়ে যায়। তাই আলাদা করে মুছে ফেলার দরকার নেই।’