Advertisement

খাদ্যে ভেজাল মেশানো, যে কঠোর শাস্তি আছে ইসলামে

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
খাদ্যে ভেজাল মেশানো, যে কঠোর শাস্তি আছে ইসলামে
ছবি: সংগৃহীত

প্রাচীন কাল থেকে মানুষ গাছের ডাল বা মিসওয়াক দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করত। এক সময় মিসওয়াকের পাশাপাশি দাঁতের মাজন হিসেবে কয়লা বা পাউডারের ব্যবহার শুরু হয়। আধুনিক যুগে মানুষের কাছে জনপ্রিয় ও সর্বোচ্চ ব্যবহার্য হয়ে উঠে টুথপেস্ট।

এদিকে দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ২৬টি টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পরিবেশবিষয়ক গবেষণা সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো)। মাইক্রোপ্লাস্টিকের কারণে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা হতে পারে। এর কারণে হজম হয় না। বিকল হতে পারে কিডনি ও লিভার। এ ছাড়া আরও নানা শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।

খাদ্যে ভেজাল মেশানো প্রতারণা

খাদ্যে ভেজাল দেওয়া, মানুষের ব্যবহার্য পণ্য বা আসবাবপত্রে ক্ষতিকর বস্তু মেশানো ক্রেতার সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এটা গুনাহের কাজ। যা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমন গর্হিত কাজে জড়িতদের জন্য কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। হাদিসে আছে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) একদিন বাজারে একজন খাদ্য বিক্রেতার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তিনি খাদ্যের ভেতরে হাত দিয়ে দেখলেন, ভেতরের খাদ্যগুলো ভেজা বা নিম্নমানের। এ অবস্থা দেখে তিনি বললেন, হে খাবারের পণ্যের মালিক এটা কী? লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসুল, এতে বৃষ্টি পড়েছিল। মহানবী (সা.) বললেন, তুমি সেটাকে খাবারের ওপরে রাখলে না কেন; যাতে লোকেরা দেখতে পেত? যে ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মত নয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০২)

খাদ্যে ভেজাল মেশানো ব্যক্তি হত্যকারী

খাদ্যে ভেজাল মেশানোর কারণে কেউ মারা গেলে সে দায় প্রতারক ব্যবসায়ীর। ইসলামে হত্যাকাণ্ডের পরকালীন শাস্তি জাহান্নাম। আল্লাহ বলেন, ‘যে কোনো মুমিনকে ইচ্ছাপূর্বক হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম। যাতে সে স্থায়ীভাবে থাকবে, তার ওপর আল্লাহর ক্রোধ ও অভিসম্পাত। আল্লাহ তার জন্য মহাশাস্তি নির্দিষ্ট করে রেখেছেন।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৯৩)

ভেজাল পণ্যের ব্যবসায়ী মহাপাপী

যেসব ব্যবসায়ী খাদ্যে বা পণ্যে ভেজাল দেয়, ভেজাল মেশায়, ভেজালে সমর্থন দেয়, ভেজাল পণ্য বিক্রি করে উপকৃত হয়, তাদের বিষয়ে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন ব্যবসায়ীদের ফাসিক বা গুনাহগাররূপে ওঠানো হবে। কিন্তু যেসব ব্যবসায়ী আল্লাহকে ভয় করে, নির্ভুলভাবে কাজ করে এবং সততা ধারণ করে তারা এর ব্যতিক্রম।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১২১০)

ইবাদত কবুল হয় না

ইসলামে হালাল রোজগারের গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ মানুষকে বৈধ পথে আয় করার নির্দেশ দিয়েছেন। হারাম থেকে বেঁচে থাকতে আদেশ করেছেন। আল্লাহ হারাম উপার্জনকারীর ইবাদত ও দোয়া কবুল করেন না। হাদিসে আছে, ‘দীর্ঘ ভ্রমণের এলোমেলো চুল ধূলিমলিন চেহারার ব্যক্তি দুই হাত আকাশের দিকে তুলে বলছে, হে আমার রব, হে আমার রব; অথচ তার আহার হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক-পরিচ্ছদ হারাম। তার হারাম খাবার দিয়ে পুরো দেহ গড়ে উঠেছে। তাহলে তার এত দোয়া কীভাবে কবুল হবে?’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০১৫)

সৎ ব্যবসায়ীর পুরস্কার

ইসলাম মানুষকে সৎ পথে অর্থোপার্জনে উৎসাহিত করেছে। সৎ ব্যবসায়ীকে আল্লাহ ভালোবাসেন। তাদের আমলনামায় সওয়াব লেখা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন সৎ ব্যবসায়ীরা সত্যবাদী ও শহীদদের সঙ্গে উঠবেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২১৩৯)