বিবস্ত্র হয়ে গোসলের পর অজু করতে হবে?

নামাজ বিশুদ্ধ হওয়ার অন্যতম শর্ত অজু করা। অজু ছাড়া নামাজ পড়লে তা হবে না। নামাজ ছাড়াও ইসলামের আরও কয়েকটি বিধান পালনের জন্য অজু করতে হয়। যেমন—কাবাঘর তাওয়াফ করা, পবিত্র কোরআন স্পর্শ করা ইত্যাদি।
অজুর ফরজ চারটি। যথা—সমস্ত মুখ ধোয়া, উভয় কান কনুইসহ ধোয়া, গোড়ালিসহ দুই পা ধৌত করা ও মাথার চার ভাগের এক ভাগ মাসাহ (পানি দিয়ে স্পর্শ) করা। এই চারটির কোনো একটা বাদ পড়লে অজু হবে না। পরিপূর্ণভাবে এই চার কাজ করলে অজু হয়ে যায়। এ ছাড়া অজুর আরও কিছু সুন্নত আছে। সেগুলোও করা সওয়াবের কাজ। এতে অজু পূর্ণ হয়।
গোসল শেষ করার পর নামাজের জন্য আলাদাভাবে অজু করার দরকার নেই। গোসল করলেই অজু হয়ে যায়। তাই কেউ যদি বিবস্ত্র হয়েও গোসল করে, তাহলেও তার আলাদা করে অজুর প্রয়োজন নেই। কারণ, বিবস্ত্র হওয়া অজু ভঙ্গের কারণ নয়। ইসলামি শরিয়তে আছে, গোসলের সব নিয়ম মেনে গোসল করলে সেখানে অজু ও পবিত্রতার সব শর্ত পাওয়া যায়, তাই আলাদাভাবে অজু করতে হবে না। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘হজরত মুহাম্মদ (সা.) গোসলের পর অজু করতেন না।’ (সুনানে নাসায়ি, আয়াত: ২৫৩)
লক্ষণীয় হলো, ফরজ গোসল হলে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া ফরজ এবং পরিপূর্ণ অজু করে নেওয়া সুন্নত। গোসল ফরজ না হলে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া সুন্নত। পরিপূর্ণ অজু করা মোস্তাহাব।
নির্জনে বিবস্ত্র হয়ে গোসল করা যাবে। তবে বিবস্ত্র হয়ে গোসল না করাই ভালো। ইসলামি গবেষকরা বলেন, গোসলের জায়গায় প্রয়োজনবশত কাপড় সরানো বা বিবস্ত্র হওয়ায় কোনো বাধা নেই। (ফতোয়া হিন্দিয়া, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ৩৬৩)
মুয়াবিয়া বিন হাইদা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তুমি তোমার স্ত্রী ছাড়া অন্যদের কাছ থেকে তোমার লজ্জাস্থান সবসময় ঢেকো রাখো। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, যদি কোনো ব্যক্তি কোথাও একাকী থাকে? (তখনো কি তা ঢেকে রাখতে হবে?)। তিনি বললেন, অবশ্যই, কেননা আল্লাহকে অধিক লজ্জা করা উচিত।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৭৬৯)





