কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে থইথই পানি, ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষার খাতা স্থানান্তর

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুমিল্লা
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে থইথই পানি, ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষার খাতা স্থানান্তর
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের থৈথৈ পানি পেরিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষার খাতা নিচ্ছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড প্রাঙ্গণ পানিতে তলিয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রের বস্তা মাথায় ও কাঁধে নিয়ে হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে বোর্ড ভবনে প্রবেশ করতে দেখা গেছে শিক্ষক ও বোর্ডের কর্মচারীদের। এতে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার খাতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ৩টা ৪০ মিনিটে সরেজমিনে শিক্ষা বোর্ড প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটক থেকে বোর্ড ভবন পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতায় ডুবে আছে। যানবাহন চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আনা পরীক্ষার উত্তরপত্রের বস্তা শিক্ষক ও কর্মচারীরা মাথায়, কাঁধে কিংবা হাতে বহন করে পানির মধ্য দিয়েই বোর্ডে নিয়ে যাচ্ছেন।

দৃশ্যটি শুধু দুর্ভোগেরই নয়, পরীক্ষার উত্তরপত্রের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। পানি অতিক্রমের সময় খাতার বস্তা হাতছাড়া হলে কিংবা পানি ঢুকে গেলে হাজারো পরীক্ষার্থীর ফলাফল ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন উপস্থিত শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষার খাতা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তাই জীবনের ঝুঁকি ও দুর্ভোগ সত্ত্বেও তারা খাতা নিয়ে বোর্ডে এসেছেন। তারা অভিযোগ করেন, সামান্য ভারী বৃষ্টি হলেই শিক্ষা বোর্ড এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরেই কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে একই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাপ্রত্যাশীদের।

শিক্ষা বোর্ডে আসা এক অভিভাবক বলেন, এভাবে খাতা বহন করার সময় যদি কোনো বস্তা পানিতে পড়ে যায়, তাহলে কত শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ভেঙে যাবে, তার কোনো হিসাব আছে? এত গুরুত্বপূর্ণ নথি বহনের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা থাকা উচিত ছিল।

শিক্ষা বোর্ড মডেল কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়ে কান্দিরপাড় যাওয়ার পথে সামিয়া নামে এক শিক্ষার্থী ঘটনাটি দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলে, এখানে আমারও খাতা থাকতে পারে। যদি খাতা পানিতে ভিজে যায়, তাহলে আমরা কষ্ট করে পরীক্ষা দেওয়ার মূল্য কোথায় থাকবে?

এ বিষয়ে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ এশিয়া পোস্টকে বলেন, মাথায় করে আনা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আমাদের তিনটি গাড়ি ছিল, সেগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে। পরিস্থিতির কারণে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বিষয় :কুমিল্লা