দাঁত নেই এমন পশু কোরবানি করা যাবে?

ফয়জুল্লাহ রিয়াদ
দাঁত নেই এমন পশু কোরবানি করা যাবে?
ছবি: সংগৃহীত

আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন ও তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের অন্যতম ইবাদত কোরবানি। সব নবী-রাসুলের উম্মতের জন্য কোরবানির বিধান ছিল। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানির বিধান দিয়েছি, যেন তারা আল্লাহর দেওয়া চতুষ্পদ গৃহপালিত পশু জবাইয়ের সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে।’ (সুরা হজ, আয়াত: ৩৪)

কোরবানির পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে শরিয়ত বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। পশুটি সুস্থ-সবল ও বড় ধরনের ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। এমন কোনো অক্ষমতা থাকা যাবে না, যা পশুর সৌন্দর্য, শক্তি বা স্বাভাবিক উপকারিতা নষ্ট করে দেয়।

কোরবানি করতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। গোশত খাওয়া বা অন্য কোনো নিয়ত বা ইচ্ছায় কোরবানি করা যাবে না। কারণ, আল্লাহ মানুষের নিয়ত দেখেন। মনের বাসনা দেখেন। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর কাছে তাদের গোশত বা রক্ত পৌঁছে না, পৌঁছে শুধু তোমাদের তাকওয়া।’ (সুরা হজ, আয়াত: ৩৭)। এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, কোরবানির মূল লক্ষ্য শুধু পশু জবাই নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উত্তম আমল উপস্থাপন করা। তাই কোরবানির পশু নির্বাচনে সামর্থ্য অনুযায়ী সুন্দর, স্বাস্থ্যবান ও ত্রুটিমুক্ত পশু বেছে নেওয়া উচিত। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) শিং বিশিষ্ট, হৃষ্টপুষ্ট একটি মেষ কোরবানি করেন, যার মুখমণ্ডল, চোখ ও পা কালো বর্ণের ছিল।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩১২৮)

কোরবানি শুদ্ধ হওয়ার জন্য পশুর নির্দিষ্ট বয়স হতে হবে। উট পাঁচ বছর, গরু ও মহিষ দুই বছর এবং ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা এক বছর বয়সী হতে হবে। তবে ছয় মাস বয়সী ভেড়া বা দুম্বা দেখতে যদি এক বছর বয়সী মনে হয়, তাহলে এগুলো দিয়েও কোরবানি করা যাবে। জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা উপযুক্ত বয়সে উপনীত পশু ছাড়া কোরবানি করো না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯৬৩)

শুধু দাঁত না থাকার কারণে কোনো পশু কোরবানির অযোগ্য হয়ে যায় না। দাঁত না থাকার কারণে পশুর খাদ্য গ্রহণ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেটা বিবেচনা করতে হবে।

ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞরা বলেন, যদি পশুর অধিকাংশ দাঁত বিদ্যমান থাকে এবং সে স্বাভাবিকভাবে ঘাস, খড় কিংবা খাদ্য গ্রহণ করতে পারে, তাহলে সে পশু দিয়ে কোরবানি করা বৈধ। কিন্তু যদি অধিকাংশ দাঁত পড়ে যায় এবং সে কারণে পশু খাবার গ্রহণে অক্ষম হয়ে পড়ে, তাহলে সে পশু দিয়ে কোরবানি করা সহিহ হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে: খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২১৫)

ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারে এক প্রশ্নের জবাবে বলা হয়েছে, ‘গরু-ছাগলের অধিকাংশ দাঁত না থাকলেও যে কয়টি দাঁত আছে, তা দিয়ে যদি ঘাস চিবিয়ে খেতে পারে, তবে সেটি দিয়ে কোরবানি সঠিক হবে। কিন্তু দাঁত পড়ে যাওয়ার কারণে ঘাস চিবিয়ে খেতে না পারে তবে ওই পশু কোরবানির উপযুক্ত নয়। সুতরাং দুয়েকটি ছাড়া সব দাঁত পড়ে গেলে সে পশু ঘাস চিবিয়ে খেতে না পারার সম্ভাবনাই যেহেতে বেশি, তাই এমন জন্তু দিয়ে কোরবানি না করাই বাঞ্ছনীয়।’