যেসব পশু দিয়ে কোরবানি হয় না

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
যেসব পশু দিয়ে কোরবানি হয় না
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান কোরবানি। আর্থিক ইবাদতের মধ্যে বিশেষ স্বাতন্ত্র ও মর্যদার অধিকারী। কোরবানি করতে হয় শুধু আল্লাহর জন্য। কারও খুশি কিংবা লোক দেখানোর জন্য কোরবানি করলে তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।

পৃথিবীর প্রথম মানুষ ও প্রথম নবী হজরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে সব নবীর শরিয়তে কোরবানি ছিল। তবে প্রত্যেক নবীর কোরবানির পদ্ধতি ছিল ভিন্ন রকম। কোরআনে আছে, ‘প্রত্যেক উম্মতের জন্য আমি কোরবানির একটি পদ্ধতির প্রচলন করেছি। তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু থেকে যে রিজিক দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর ওপর তারা যেন আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে।’ (সুরা হজ, আয়ত: ৩৪)

অহিংস্র গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু দিয়ে কোরবানি করতে হবে। শরিয়তে কোরবানি দেওয়ার ক্ষেত্রে উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ইত্যাদি পছন্দের পশু। হজরত মুহাম্মদ (সা.) উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা ছাড়া অন্য কোনো পশু কোরবানির অনুমোদন দেননি। তাই এসব পশু দিয়েই কোরবানি করা সুন্নত।

ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, উটের বয়স পাঁচ ও গরু বা মহিষের বয়স দুই বছর হতে হবে। ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা এক বছরের হওয়া শর্ত।

নির্দিষ্ট পশুর বাইরে যেমন সব ধরনের পশু দিয়ে কোরবানি করা যায় না। তেমনি কোরবানির পশু দোষত্রুটিমুক্ত হওয়া শর্ত। পশুর মধ্যে কিছু ত্রুটি থাকলে কোরবানি দেওয়া যাবে না। যেসব ত্রুটিযুক্ত পশু দিয়ে কোরবানি হয় না, এখানে সেগুলো উল্লেখ করা হলো—

  • শ্রবণশক্তি না থাকা।
  • দৃষ্টিশক্তি না থাকা।
  • লেংড়া—জবাই করার জায়গা পর্যন্ত হেঁটে যেতে অক্ষম।
  • অত্যন্ত দুর্বল ও জীর্ণ-শীর্ণ।
  • জন্মগতভাবে কান না থাকা।
  • কানের বেশিরভাগ অংশ কাটা।
  • লেজের বেশিরভাগ অংশ কাটা।
  • পাগল হওয়ার কারণে ঘাস-পানি ঠিকমতো না খাওয়া।
  • গোড়াসহ শিং উপড়ে যাওয়া।
  • রোগের কারণে স্তনের দুধ শুকিয়ে যাওয়া।
  • বেশিভাগ দাঁত না থাকা।
  • গরু বা মহিষের চারটি দুধের যে কোনো দুটি কাটা।
  • ছাগলের দুটি দুধের যে কোনো একটি কাটা।

বারা ইবনে আজিব (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) হাত দিয়ে ইশারা করে বলেছেন, চার ধরনের পশু দিয়ে কোরবানি করা যায় না। সেগুলো হলো, যে পশুর এক চোখের দৃষ্টিহীনতা স্পষ্ট, যে পশু অতিশয় রুগ্‌ণ, যে পশু সম্পূর্ণ খোড়া এবং যে পশু এত শীর্ণ যে, তার হাড়ে মজ্জা নেই। লোকেরা বলল, ‘আমরা তো দাঁত, কান ও লেজে ত্রুটিযুক্ত প্রাণী (দিয়ে কোরবানি করা)ও অপছন্দ করি।’ তিনি বললেন, যা ইচ্ছা অপছন্দ করতে পারো। তবে তা অন্যের জন্য হারাম করো না।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৯১৯)

আলি (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের আদেশ করেছেন, আমরা যেন কোরবানির পশুর চোখ ও কান ভালোভাবে লক্ষ করি। যে পশুর কানের অগ্রভাগ বা পশ্চাদভাগ কাটা, তা দিয়ে যেন কোরবানি না করি। যে পশুর কান ফাড়া বা কানে গোলাকার ছিদ্র আছে, তা দিয়েও যেন কোরবানি না করি।’ (সুনানে আবু দাউদ, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৩৮৮)

বিষয় :asiapost