যে সন্তানের দোয়া কবুল হয়

যে সন্তানের দোয়া কবুল হয়
ছবি: সংগৃহীত

আজকাল প্রায়ই আপনার মন খারাপ থাকে? কোনো কিছু ভালো লাগে না? ভালো ঘুম হয় না? পড়াশোনায় মন বসে না? বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা জমে না? অফিসের কাজে বেশ বিরক্ত লাগে? রিজিকে বরকত নেই? টাকা রোজগার করছেন ঠিকই, কিন্তু এই টাকায় মাস পার হচ্ছে না? অথচ গত মাসেও ভালো চলছিলেন এই টাকায়। ভীষণ বিষণ্নতা পেয়ে বসেছে আপনাকে? যেন হতাশার সাগরে ডুবে মরছেন। 

Advertisement

ঠিক এমন পরিস্থিতে আপনি খেয়াল করে দেখুন, আপনার মা-বাবার সঙ্গে আপনার আচরণ ঠিক আছে কি না। তাদের সঙ্গে আপনার সম্পর্কের মাত্রা কোন পর্যায়ে আছে। আপনি তাদের কষ্টের কারণ হয়েছেন কি না। তারা আপনার প্রতি অসন্তুষ্ট কি না। মনে রাখবেন, মা-বাবার প্রতি আপনার আচরণ খারাপ কিংবা তাদের মনে কষ্ট দিয়ে আপনি কখনোই সুখে থাকতে পারবেন না। আপনি শান্তি পাবেন না। 

যাদেরই জীবনযাপনে খুব সমস্যা চলছে, নিশ্চিত তাদের মা-বাবার সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। তাই আপনার জীবনে অস্থিরতা কিংবা অশান্তি নেমে এলে তাদের কাছে আপনার ভুলগুলোর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তাদের সন্তুষ্টি লাভের সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন।

আপনি যখন মা-বাবার চোখে আদর্শবান সন্তান হবেন, দুনিয়ার সবকিছুর ঊর্ধ্বে তাদের প্রাধান্য দেবেন, তারা আপনার প্রতি খুশি থাকবে। তখন আল্লাহ আপনার প্রতি দয়াশীল হবেন। আপনার জন্য শুভকামনা পাঠাবেন। আল্লাহ তাআলা আপনার দোয়া কবুল করবেন।  

হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘তিনজন হেঁটে যাচ্ছিল। বৃষ্টি শুরু হলে তারা গুহায় আশ্রয় নেয়। এ সময় পাহাড় থেকে একটি পাথর গুহার মুখের ওপর গড়িয়ে পড়ে। ফলে গুহাটির মুখ বন্ধ হয়ে যায়। তাদের একজন অন্যদের বলল, ‘তোমাদের কাজের প্রতি লক্ষ করো, যে ভালো কাজ তোমরা আল্লাহর জন্য করেছো, তার বিনিময়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করো। হয়তো তিনি পাথর সরিয়ে দেবেন।’ 

একজন বলল, ‘হে আল্লাহ, আমার বয়োবৃদ্ধ মা-বাবা ছিল এবং ছোট শিশুসন্তান ছিল। আমি তাদের জীবিকার জন্য মাঠে পশু চরাতাম। সন্ধ্যায় দুধ দোহন করে আমার সন্তানদের আগেই মা-বাবাকে পান করতে দিতাম। একদিন পশুগুলো দূরে বনের মধ্যে চলে যায়। আমার বাড়ি ফিরতে দেরি হয়। ফিরে দেখি, তারা ঘুমিয়ে পড়েছেন। আমি দুধ নিয়ে তাদের মাথার কাছে দাঁড়িয়ে রইলাম। ঘুম থেকে তাদের জাগানো ভালো মনে হলো না। তাদের আগে শিশুদের পান করানো অপছন্দ করলাম। এদিকে শিশুরা আমাদের দুই পায়ের কাছে কান্নাকাটি করছিল। এ রকম চলতে থাকে। এভাবে ভোর হলো। হে আল্লাহ, তুমি জানো, আমি শুধু তোমার সন্তুষ্টির জন্যই এ কাজ করেছি। তুমি আমাদের জন্য একটু ফাঁক করে দাও, যাতে আমরা আকাশ দেখতে পাই।’ আল্লাহ তাদের জন্য একটু ফাঁক করে দেন। তারা আকাশ দেখতে পেল।

দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল, ‘হে আল্লাহ, আমার এক চাচাত বোন ছিল। আমি তাকে এত ভালোবাসতাম, যা কোনো পুরুষই নারীর জন্য পারে না। আমি তাকে একান্ত পেতে চাইলে সে অসম্মতি জানিয়ে একশ দিনার চাইল। কষ্ট করে একশ দিনার জোগাড় করে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। আমি তার দুই পায়ের মধ্যে বসে পড়লে সে বলল—হে আল্লাহর বান্দা, আল্লাহকে ভয় করো। আমার সতিত্ব নষ্ট করো না।’ আমি উঠে গেলাম। হে আল্লাহ, তুমি জানো, শুধু তোমার সন্তুষ্টির জন্য আমি তা করেছি। আমাদের জন্য একটু ফাঁকা করে দাও। আল্লাহ তাদের জন্য আরও কিছু ফাঁক করে দিলেন। 

 

শেষের লোকটি বলল, ‘হে আল্লাহ, আমি একজন শ্রমিককে এক ‘ফারক’ (৩ কেজি ৩০০ গ্রাম) চালের বিনিময়ে কাজে নিয়োগ দিয়েছিলাম। সে কাজ শেষে বলল—আমার প্রাপ্য দেন।’ দিলাম। কিন্তু সে তা ছেড়ে দিল ও প্রত্যাখ্যান করল। পরে আমি তার প্রাপ্যটুকু কৃষিকাজে খাটিয়ে অনেকগুলো গরু ও রাখাল করলাম। সে এক দিন এসে বলল—আল্লাহকে ভয় করো, আমার ওপর জুলুম করো না এবং আমার প্রাপ্য দিয়ে দাও।’ বললাম, ‘ওই গরু ও রাখালের কাছে যাও।’ সে বলল—আল্লাহকে ভয় করো, আমার সঙ্গে উপহাস করো না। আমি বললাম, তোমার সঙ্গে উপহাস করছি না। তুমি ওই গরুগুলো ও রাখাল নিয়ে যাও। এরপর সে ওগুলো নিয়ে গেল। (হে আল্লাহ,) তুমি জানো, এটা তোমার সন্তুষ্টির জন্যই করেছি। তুমি অবশিষ্ট অংশ উন্মুক্ত করে দাও। আল্লাহ তাদের জন্য তা উন্মুক্ত করে দিলেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৭৪)