সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন/আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বাজারে কেমন করছে চীন?

সিয়ং হিয়ন চোই
আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বাজারে কেমন করছে চীন?
প্যারিসের সদ্য সমাপ্ত অস্ত্র মেলা ‘ইউরোসেটরি’ তে যোগ দেয় চীনের সমরাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। ছবি : সংগৃহীত

প্যারিসে সদ্য সমাপ্ত অস্ত্র মেলা ‘ইউরোসেটরি’ তে বিশ্বের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানির সঙ্গে যোগ দিয়েছে চীনের সমরাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের ড্রোন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব বেড়েছে। তাই এবারের মেলায় সবার নজর ছিল অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির দিকে।

Advertisement

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে বিশ্বের দক্ষিণের দেশগুলো (গ্লোবাল সাউথ) থেকে ভালো ক্রয়াদেশ পেতে পারে চীন। তবে ভূরাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো চীনের অস্ত্র কিনবে না। তারা মূলত যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত এবং নিজেদের ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তি খুঁজছে।

চীনের সবচেয়ে বড় সমরাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘নোরিনকো’ (নর্থ ইন্ডাস্ট্রিজ গ্রুপ করপোরেশন) মেলায় বেশ কিছু ‘সারফেস টু এয়ার’বা ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রদর্শন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্কাই ড্রাগন ১০০ এবং ইতিয়ান ২। এ ছাড়া ড্রোন ধ্বংস করার জন্য তারা বিমানবিধ্বংসী কামান ও লেজার অস্ত্র প্রদর্শন করেছে।

চীনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশে পৌঁছে গেছে। তাদের তৈরি এইচকিউ-৯ দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আজারবাইজান, মিসর, পাকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানের কাছে বিক্রি করার খবর পাওয়া গেছে। ইউরোপের বাজারে চীনের অস্ত্রের উপস্থিতি বিরল হলেও সার্বিয়া বর্তমানে এইচকিউ-২২ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার রপ্তানি সংস্করণ ‘এফকে-৩’ ব্যবহার করছে।

ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করা বেশ কঠিন কাজ। এর জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রাডার ও উন্নত প্রযুক্তির ইন্টারসেপ্টর নির্মাণের সক্ষমতা প্রয়োজন। এ কারণে হাতেগোনা কয়েকটি দেশই কেবল এসব প্রযুক্তি রপ্তানি করতে পারে।

মার্কিন প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন মেলায় ‘থাড’ এবং প্যাক-৩ এমএসই ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করেছে। এটি আগের প্যাক-৩-এর উন্নত সংস্করণ, যার পাল্লা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি। এ ছাড়া প্রদর্শনীতে প্যাট্রিয়ট মিসাইল ইন্টারসেপ্টরও দেখানো হয়েছে। বর্তমানে জার্মানিতে মোতায়েন করা মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট এই ব্যবস্থা ব্যবহার করছে।

ফ্রান্স, ইতালি ও থালেস গ্রুপের যৌথ উদ্যোগ ‘ইউরোস্যাম’ তাদের উন্নত প্রযুক্তির ‘SAMP/T NG’ ব্যবস্থা প্রদর্শন করেছে। এর পাল্লা ১৫০ কিলোমিটার। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে ফ্রান্স ও ইতালির কাছ থেকে ক্রয়াদেশ পেয়েছে এবং এ বছরের শেষ নাগাদ তা সরবরাহ করা শুরু হবে।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনায় সস্তা ও ধীরগতির শাহেদ ড্রোন এবং দ্রুতগতির ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার দেখা গেছে। লন্ডনের থিঙ্ক ট্যাংক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশেষজ্ঞ লামি কিম বলেন, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

লামি কিম আরও বলেন, বর্তমান অস্ত্রভান্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেনকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠিয়েছে। আবার যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকেও এই ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো বিপুল পরিমাণ ইন্টারসেপ্টর (আক্রমণ ঠেকানোর ক্ষেপণাস্ত্র) ব্যবহার করেছে। এখন তাদের সেই ভান্ডার পুনরায় পূরণ করতে হবে।’

কিয়েভের নিউ ইউরোপ সেন্টারের সিনিয়র ফেলো নাতালিয়া বুতির্স্কা বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাহিদা ও গুরুত্ব অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো দ্রুত এসব ব্যবস্থা ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছে।

বুতির্স্কা বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে যে আধুনিক সংঘাতগুলোতে সমন্বিতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। এসব হামলা রুখতে সমন্বিত ও বহুস্তরবিশিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন, যা বিভিন্ন পাল্লা ও উচ্চতায় হুমকি মোকাবিলা করতে সক্ষম।’

এর ফলে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন বিচ্ছিন্ন কোনো সমাধানের বদলে সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

এবারের অস্ত্র মেলায় আকাশ প্রতিরক্ষা বাজারে নতুন কিছু প্রতিদ্বন্দ্বীর আবির্ভাব ঘটেছে। তাদের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। তারা এম-স্যাম এবং এল-স্যাম ব্যবস্থা প্রদর্শন করেছে।

এগুলো উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলায় সিউলের বহুস্তরবিশিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ।

এম-স্যাম ব্যবস্থাটি ৫০ কিলোমিটার পাল্লার মধ্যবর্তী হুমকি মোকাবিলা করতে সক্ষম। ইরান থেকে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত এটি ব্যবহার করেছিল।

জানা গেছে, এর সাফল্যের হার ছিল ৯৬ দশমিক ৭ শতাংশ; অর্থাৎ ৩০টি লক্ষ্যের মধ্যে ২৯টিই এটি ধ্বংস করতে পেরেছে। ইতিমধ্যে সৌদি আরব ১০টি এবং ইরাক ৮টি ইউনিটের ক্রয়াদেশ দিয়েছে।

অন্যদিকে, ১৫০ কিলোমিটার পাল্লার এল-স্যাম দীর্ঘপাল্লার আকাশপথে আসা হুমকি রুখতে পারে। এল-স্যাম ‘ব্লক ১’-এর উন্নয়ন কাজ গত মে মাসে শেষ হয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে এটি দক্ষিণ কোরীয় সেনাবাহিনীতে যুক্ত হতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান হানওয়া এবারের মেলায় তাদের ড্রোন বিধ্বংসী ব্যবস্থা এইচ-শোরাড প্রদর্শন করেছে। এটি নিম্ন উচ্চতার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যাতে রাডার, ৩০ মিলিমিটারের গান, গাইডেড মিসাইল ও জ্যামার—সব একই প্ল্যাটফর্মে রাখা হয়েছে।

ইউরোসেটরিতে উপস্থিত হানওয়া অ্যারোস্পেসের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইউরোপের জন্য আমেরিকার প্যাট্রিয়ট বা প্যাক-৩-এর চেয়ে দক্ষিণ কোরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশি উপযোগী হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমেরিকান ব্যবস্থাগুলো বেশ ব্যয়বহুল।

ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র এগুলো প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করেছে, ফলে তাদের রপ্তানির মজুতও ফুরিয়ে আসছে। আমরা আমাদের শক্তির জায়গাগুলো তুলে ধরে প্রচারণা চালাচ্ছি এবং ইউরোপের বেশ কিছু দেশ আমাদের প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখিয়েছে।’

দক্ষিণ কোরীয় অন্য প্রতিষ্ঠান এলআইজি ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস-ও ইউরোপে তাদের পদচিহ্ন বাড়াচ্ছে। গত ১৫ জুন জার্মানির সমরাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘রাইনমেটাল’ জানায়, ইউরোপ ও ন্যাটোর জন্য যৌথভাবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির লক্ষে তারা এলআইজি-র সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশীদারত্বের চুক্তি করেছে।

বিশেষজ্ঞ লামি কিম বলেন, এসব ব্যবস্থার দাম অনেক বেশি হওয়া সত্ত্বেও অন্তত বর্তমান সময়ের জন্য এর চাহিদা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে যতক্ষণ পর্যন্ত সাশ্রয়ী ও নতুন ড্রোন বিধ্বংসী প্রযুক্তি পুরোপুরি গড়ে না উঠছে।

এম-স্যাম ব্যবস্থাটি ৫০ কিলোমিটার পাল্লার মধ্যবর্তী হুমকি মোকাবিলা করতে সক্ষম। ইরান থেকে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত এটি ব্যবহার করেছিল। জানা গেছে, এর সাফল্যের হার ছিল ৯৬ দশমিক ৭ শতাংশ; অর্থাৎ ৩০টি লক্ষ্যের মধ্যে ২৯টিই এটি ধ্বংস করতে পেরেছে। ইতিমধ্যে সৌদি আরব ১০টি এবং ইরাক ৮টি ইউনিটের ক্রয়াদেশ দিয়েছে।

অন্যদিকে ১৫০ কিলোমিটার পাল্লার এল-স্যাম দীর্ঘপাল্লার আকাশপথে আসা হুমকি রুখতে পারে। এল-স্যাম ‘ব্লক ১’-এর উন্নয়ন কাজ গত মে মাসে শেষ হয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে এটি দক্ষিণ কোরীয় সেনাবাহিনীতে যুক্ত হতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান হানওয়া এবারের মেলায় তাদের ড্রোন বিধ্বংসী ব্যবস্থা এইচ-শোরাড প্রদর্শন করেছে। এটি নিম্ন উচ্চতার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যাতে রাডার, ৩০ মিলিমিটারের গান, গাইডেড মিসাইল ও জ্যামার—সব একই প্ল্যাটফর্মে রাখা হয়েছে।

ইউরোসেটরিতে উপস্থিত হানওয়া অ্যারোস্পেসের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইউরোপের জন্য আমেরিকার প্যাট্রিয়ট বা প্যাক-৩-এর চেয়ে দক্ষিণ কোরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশি উপযোগী হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমেরিকান ব্যবস্থাগুলো বেশ ব্যয়বহুল। ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র এগুলো প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করেছে, ফলে তাদের রপ্তানির মজুতও ফুরিয়ে আসছে। আমরা আমাদের শক্তির জায়গাগুলো তুলে ধরে প্রচারণা চালাচ্ছি এবং ইউরোপের বেশ কিছু দেশ আমাদের প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখিয়েছে।’

দক্ষিণ কোরীয় অন্য প্রতিষ্ঠান এলআইজি ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস-ও ইউরোপে তাদের পদচিহ্ন বাড়াচ্ছে। গত ১৫ জুন জার্মানির সমরাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘রাইনমেটাল’ জানায়, ইউরোপ ও ন্যাটোর জন্য যৌথভাবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির লক্ষ্যে তারা এলআইজির সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশীদারত্বের চুক্তি করেছে।

বিশেষজ্ঞ লামি কিম বলেন, এসব ব্যবস্থার দাম অনেক বেশি হওয়া সত্ত্বেও অন্তত বর্তমান সময়ের জন্য এর চাহিদা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে যতক্ষণ পর্যন্ত সাশ্রয়ী ও নতুন ড্রোন বিধ্বংসী প্রযুক্তি পুরোপুরি গড়ে না উঠছে।

লামি কিম বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত প্রথাগত শক্তিশালী ব্যবস্থার পাশাপাশি ড্রোনের মোকাবিলায় ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও লেজার অস্ত্রের মতো নতুন প্রযুক্তির একটি সমন্বয় দেখা যাবে।’ তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনও ইউরোপের বাজারে সেভাবে জায়গা করে নিতে পারেনি। তবে এই অঞ্চলে দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় যে বড় ঘাটতি রয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া তা পূরণ করতে পারে।

ওয়াশিংটনের হাডসন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো লিজেলোট ওডগার্ড বলেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন আর কেবল ‘এলিট’ বা বিশেষ কোনো সক্ষমতা নয়। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আধিক্যের কারণে এটি এখন সবার জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি এই প্রযুক্তির প্রতিযোগিতাকে তিনটি স্তরে ভাগ করেছেন। উচ্চপর্যায়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউরোপ। মধ্যপর্যায়ে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। আর সাশ্রয়ী মূল্যে বিশ্বের দক্ষিণের দেশগুলোর (গ্লোবাল সাউথ) জন্য রয়েছে চীন।

কিংস কলেজ লন্ডনের সিনিয়র লেকচারার বেনস নেমেথ বলেন, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোতে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হিসেবে টিকে থাকবে। তবে সব জায়গায় তাদের সম্ভাবনা সমান নয়। কারণ বড় ক্রেতারা কেবল কারিগরি বৈশিষ্ট্য দেখেন না। তারা যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার বিষয়গুলোকেও সমান গুরুত্ব দেন।

নেমেথ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি ব্যবস্থার যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যবস্থাগুলো এখন গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। আর ইউরোপের প্রযুক্তিগুলো ন্যাটোর সঙ্গে সামঞ্জস্যতা ও রাজনৈতিক আস্থার কারণে সুবিধা পাচ্ছে। তার মতে, বৈশ্বিক সমরাস্ত্র বাজারে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হবে অন্যতম বড় প্রবৃদ্ধির খাত। যারা কম খরচে এই সমস্যার সমাধান দিতে পারবে, তারাই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে। তিনি মনে করেন, এখন একক কোনো প্ল্যাটফর্মের চেয়ে সমন্বিত ব্যবস্থার চাহিদা বেশি থাকবে।

কিয়েভের নিউ ইউরোপ সেন্টারের সিনিয়র ফেলো নাতালিয়া বুতির্স্কা বলেন, ইউরোসেটরিতে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সরব উপস্থিতিই বলে দেয় যে ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এখানে দক্ষিণ কোরিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘নতুন পক্ষ’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তার মতে, চীনের বাজার মূলত বিশ্বের দক্ষিণের দেশগুলোতেই সীমাবদ্ধ থাকবে। সাশ্রয়ী দাম ও সহজ শর্তের কারণে সেখানে তাদের চাহিদা থাকবে।

বুতির্স্কা আরও উল্লেখ করেন যে, এখনকার সংঘাতগুলোতে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ও কার্যকারিতার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এম-স্যাম নির্ভরযোগ্য হিসেবে বেশ সুনাম অর্জন করেছে এবং এর দামও মার্কিন প্রযুক্তির চেয়ে কম। অন্যদিকে, ইরান রাশিয়া ও চীনের যন্ত্রাংশ দিয়ে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিখুঁত হামলা মোকাবিলায় খুব একটা কার্যকর প্রমাণিত হয়নি।

পরিচিতি

সিয়ং হিয়ন চোই ২০২২ সালে হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টে (এসসিএমপি) যোগ দেন। তিনি মূলত চীনবিষয়ক সংবাদ সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরি করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক সিয়ং হংকং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক এবং আন্তর্জাতিক ও পাবলিক অ্যাফেয়ার্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পেশাগত জীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী থিংকট্যাংক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস)-এর কোরিয়া চেয়ারে গবেষণা ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করেছেন। এ ছাড়া তিনি এনকে (NK) নিউজে প্রশিক্ষণার্থী সংবাদকর্মী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।