আল-আজহারে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে শীর্ষ দশে ৭ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

আফছার হোসাইন, কায়রো (মিশর)
আল-আজহারে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে শীর্ষ দশে ৭ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী
মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে শীর্ষ দশে স্থান করে নেওয়া সাতজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। ছবি: এশিয়া পোস্ট গ্রাফিকস

বিদেশের মাটিতে আবারও উজ্জ্বল হলো বাংলাদেশের নাম। বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও সর্বাধিক প্রভাবশালী ইসলামি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছর মেয়াদি স্নাতক (গ্রাজুয়েশন) সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত গড় ফলাফলের ভিত্তিতে সেরা ১০-এ স্থান করে নিয়েছেন সাতজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।

তাদের এই অসাধারণ অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক শিক্ষাঙ্গনে বাংলাদেশের মেধা, অধ্যবসায় ও সম্ভাবনার এক অনন্য স্বাক্ষর।

সোমবার (৬ জুলাই) আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মতত্ত্ব অনুষদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে চার বছরের চূড়ান্ত গড় ফলাফলের ভিত্তিতে সেরা ১০ গ্রাজুয়েটের তালিকা প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফলাফলে বিভিন্ন বিভাগে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ঈর্ষণীয় সাফল্য শিক্ষকমণ্ডলী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের আবহ তৈরি করেছে।

আকিদা ও দর্শন (শুবাতুল আকিদা ওয়াল ফালসাফা) বিভাগে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ছিল সবচেয়ে উজ্জ্বল। এ বিভাগে মাহবুবুল আলম চার বছরের গড় ৯৪.০৮ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন। মাহফুজুর রহমান গড় ৯৩.৪৩ নম্বর নিয়ে দ্বিতীয় এবং মুহা. রেজাউল করীম গড় ৯১.০৭ নম্বর পেয়ে সপ্তম স্থান অর্জন করেন।

তাফসির বিভাগেও ছিল বাংলাদেশিদের সাফল্যের ছাপ। মাসুম বিল্লাহ গুলজার চার বছরের গড় ৯৫.০৩ নম্বর নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। ইয়াকুব বিন ইসহাক গড় ৯২.২৯ নম্বর নিয়ে ষষ্ঠ এবং আতিকুল ইসলাম গড় ৯০ নম্বর নিয়ে দশম স্থান লাভ করেন। এ ছাড়া হাদিস বিভাগে জুবায়ের আহমদ চার বছরের গড় ৯০.০৬ নম্বর অর্জন করে সেরা দশে নিজের স্থান নিশ্চিত করেন।

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় শুধু মিশরের নয়, সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জ্ঞানচর্চার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামি শিক্ষা, গবেষণা ও নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন অসংখ্য আলেম ও গবেষক। এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষদে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এই ধারাবাহিক সাফল্য নিঃসন্দেহে জাতির জন্য গর্বের বিষয়।