ঈদের দিন ব্যাচেলরদের কষ্ট দূর করার ৯ উপায়

ঈদের দিন সকাল। চারপাশে সবাই নতুন পাঞ্জাবি পরে ঘুরছে, আর আপনি মেসের ভাঙা খাটে শুয়ে সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে আছেন। বাড়ি যাওয়া হয়নি, পকেটে টাকা নেই, চাকরিও নেই। বুকের ভেতর হু হু করে ওঠাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বেকার ও শিক্ষিত ব্যাচেলর ভাইয়েরা, দুঃখ করে কী লাভ? আসুন, এই করুণ পরিস্থিতিকে একটু অন্য চোখে দেখি।
আপনাদের ঈদের দিনটিকে রঙিন করতে রইল ১০টি শতভাগ ‘কার্যকরী’ স্যাটায়ারিক উপায়—
নতুন জামার কষ্ট দূর করুন
নতুন পাঞ্জাবি কেনার টাকা নেই তো কী হয়েছে? মেসের খাটের নিচে গত তিন মাস ধরে পড়ে থাকা সেই শার্টটা বের করুন। এরপর আধা কেজি ডিটারজেন্ট দিয়ে এমনভাবে ঘষুন যেন শার্টের ভেতরের ময়লার সাথে আপনার জীবনের সব হতাশা ধুয়ে যায়। কড়া রোদে শুকানোর পর ডিটারজেন্টের যে কড়া গন্ধ বেরোবে, চোখ বন্ধ করে ভাবুন—এটাই নামিদামি ব্র্যান্ডের পারফিউম!
ব্যাচেলর স্পেশাল মাল্টিভার্স খিচুড়ি
পোলাও-কোর্মা মিস করছেন? চিন্তা নেই! রান্নাঘরে গিয়ে হাঁড়িতে বেঁচে থাকা চাল, ডাল, আলু আর সব রকম মসলা একসাথে মিশিয়ে বানিয়ে ফেলুন ‘ব্যাচেলর স্পেশাল মাল্টিভার্স খিচুড়ি’। মাংস নেই তো কী হয়েছে? ডিম ভেজে সেটাকে গরুর মাংস ভেবে চিবোতে থাকুন। মনে রাখবেন, পেট ভরানোটাই আসল, স্বাদ তো মনের ভুল!
ঈদ সালামি নিশ্চিত করুন
ঈদে বাসায় নেই বলে কি সালামি জুটবে না? মোটেই না! সকালে উঠেই সব আত্মীয়-স্বজন, বড় ভাই আর ধনী কাজিনদের ইমোশনাল মেসেজ পাঠান— "ঈদের দিনে পরিবারকে খুব মিস করছি... আপনাদের দোয়াই আমার সম্বল।" আর ঠিক নিচেই ব্র্যাকেটে লিখে দিন: "(বিকাশ/নগদ নম্বর: ০১XXX... সেন্ড মানি খরচসহ দিলে ভালো হয়)"। দেখবেন, দু-একজন ইমোশনাল হয়ে ঠিকই কিছু পাঠিয়ে দেবে!
প্রেমিকাকে খুশি করুন
পকেটে বাতাস, এদিকে প্রেমিকার ফোন— "বেবি, আমার জন্য ঈদে কী কিনলে?" ঘাবড়াবেন না। একদম গম্ভীর গলায় দার্শনিক হয়ে যান। বলুন, "জান, পুঁজিবাদী সমাজ আমাদের শিখিয়েছে ভালোবাসা মানেই উপহার। কিন্তু আমি এই ঈদে বস্তুতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি। আমার এই খাঁটি প্রেমই তোমার সেরা ঈদ গিফট!" (বুক ধড়ফড় করলেও গলা কাঁপতে দেওয়া যাবে না)।
বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ
যেসব বন্ধু আপনাকে মেসে ফেলে বাড়ি গিয়ে ঈদের মাংস খাচ্ছে, তাদের একটু প্যারা না দিলে কি হয়? ফোন করে করুণ গলায় বলুন, "দোস্ত, তোর তোশকটা তো ইঁদুরে কেটে শেষ করে দিল!" অথবা, ওদের আপলোড করা সুন্দর সুন্দর ঈদের ছবির নিচে কমেন্ট করুন— "ভাই, পাঞ্জাবিটা কি গত বছরের? নাকি ধার করা?" দেখবেন, ওদের ঈদের আনন্দ একটু হলেও মাটি হবে, আর আপনার শান্তি লাগবে।
দুবাই ঘুরে আসুন
ঈদের দিন বাইরে প্রচুর রোদ, জ্যাম আর আত্মীয়দের "চাকরি কবে পাবি" জাতীয় প্রশ্ন। এই সব কিছু থেকে বাঁচার সেরা উপায় হলো— ঘুম। চোখ বন্ধ করুন আর স্বপ্নে দুবাই গিয়ে ঈদ উদযাপন করে আসুন। এই ঘুমের কোনো খরচ নেই, আর কেউ ডিস্টার্ব করারও নেই। ঘুম থেকে উঠলে দেখবেন ঈদের দিন অর্ধেক শেষ!
দামি গাড়িতে চড়ার অনুভুতি নিন
রুমমেট যে পাঞ্জাবিটা ভুল করে মেসে ফেলে গেছে, সেটা ইস্ত্রি করে পরে ফেলুন। এরপর মেসের সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে পাশের বাড়ির আঙ্কেলের দামি গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে একটা সেলফি তুলুন। ক্যাপশনে লিখুন— "ঈদ ভাইবস! আলহামদুলিল্লাহ ফর এভরিথিং।" কেউ বুঝতেই পারবে না আপনার পেটে খিদে আর পকেটে শূন্যতা।
বিনা পুঁজিতে রাজকীয় ভোজ
এলাকায় পরিচিত কোনো বিবাহিত বড় ভাই থাকলে ঠিক দুপুরের সময় করুণ মুখ করে তার বাসায় হাজির হয়ে যান। গিয়ে শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলুন, "ভাইয়া, আজ মেসের চুলা জ্বলেনি...।" ব্যাস! ভাবি এমনিতেই মায়া করে আপনাকে পোলাও-মাংস খাইয়ে দেবে। একেই বলে বিনা পুঁজিতে রাজকীয় ভোজ।
সমব্যাথী ভাইদের সাথে আড্ডা
সবশেষে, মেসের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আপনার মতো যে কজন অভাগা ব্যাচেলর রয়ে গেছে, তাদের সাথে এক কাপ লাল চা হাতে আড্ডায় বসুন। নিজেদের দুঃখগুলো নিয়ে হাসাহাসি করুন। বিশ্বাস করুন, এই মেসে থাকা দিনগুলো, এই একসাথে চা খাওয়া আর পকেট ফাঁকা থাকার গল্পগুলোই একদিন আপনাদের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকবে।




