ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ‘দমন কমিশনের’ সদস্য হতে চান মেসি ও নেইমার

দাদা ঠাকুর
ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ‘দমন কমিশনের’ সদস্য হতে চান মেসি ও নেইমার
ছবি: এআই জেনারেটেড

বিশ্বকাপ ফুটবল আসতে এখনও বেশ কিছুটা সময় বাকি, কিন্তু বাংলাদেশে এরই মধ্যে বেজে উঠেছে উন্মাদনার দামামা। চায়ের কাপে ঝড় তোলার পুরোনো ঐতিহ্যকে এবার যেন কয়েক ধাপ ছাড়িয়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘ফটোকার্ড’ যুদ্ধ। ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করলেই এখন চোখে পড়ছে দারুণ সব সৃজনশীল কিন্তু চরম হাস্যরসাত্মক ফটোকার্ড। একদল বানিয়েছে ‘ব্রাজিল দমন কমিশন’, তো আরেক দলের পাল্টা জবাব ‘আর্জেন্টিনা দমন কমিশন’।

গত নভেম্বরে পেশাগত কাজে ব্রাজিলে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। বিশ্বাস করুন, খোদ রিও ডি জেনিরো বা সাও পাওলোর রাস্তায় ঘুরেও আমি বিশ্বকাপের এমন অগ্রিম উন্মাদনা দেখিনি, যতটা এখন ঢাকার অলিগলি থেকে শুরু করে ফেসবুকের দেয়ালে দেয়ালে ভাসছে।

মজার ব্যাপার হলো, কোনো নির্দিষ্ট বাজেট বা পেইড বুস্টিং ছাড়াই, সম্পূর্ণ অর্গানিক উপায়ে এই ফটোকার্ডগুলো লাখ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। এই অভিনব ‘আর্নড মিডিয়া’ বা স্বতঃস্ফূর্ত প্রচারণার শক্তি দেখে রীতিমতো অবাক হতে হয়।

বাংলাদেশের এই অদ্ভুত এবং মজাদার ক্রেজ নিয়ে খোদ ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা—লিওনেল মেসি এবং নেইমার জুনিয়র কী ভাবছেন? বিষয়টি জানতে আমরা হাজির হয়েছিলাম মায়ামির এক ছিমছাম ক্যাফেতে।

একদিকে বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন জাদুকর মেসি, অন্যদিকে ব্রাজিলের পোস্টার বয় নেইমার। দুজনের সামনেই রাখা বাংলাদেশের কিছু ভাইরাল ফটোকার্ড। শুরু হলো এক কাল্পনিক, কিন্তু চরম হাস্যরসাত্মক আড্ডা।

সাংবাদিক: আপনাদের দুজনকে স্বাগত। তবে আজ আমরা কোনো ট্যাকটিকস বা ব্যালন ডি’অর নিয়ে কথা বলব না। আজ কথা হবে আপনাদের সবচেয়ে পাগল ভক্তদের দেশ, বাংলাদেশ নিয়ে। আপনারা কি জানেন, সেখানে আপনাদের ‘দমন’ করার জন্য রীতিমতো ‘কমিশন’ গঠন করা হয়েছে?

ব্রাজিল ভক্ত আতিকা রহমানের ফেসবুক পোস্ট। ছবি: সংগৃহীত
ব্রাজিল ভক্ত আতিকা রহমানের ফেসবুক পোস্ট। ছবি: সংগৃহীত

নেইমার: (হাসতে হাসতে প্রায় কোল্ড ড্রিংকস ফেলে দেওয়ার অবস্থা) হ্যাঁ, আমি শুনেছি! পরশুদিন আমার এক বন্ধু আমাকে একটা ছবি পাঠাল। দেখলাম, একটা সুন্দর গ্রাফিকস করা কার্ড, সেখানে লেখা ‘ব্রাজিল দমন কমিশন: নেইমারের ডাইভ রোধে বিশেষ স্কোয়াড গঠন’। ভাই, আমি তো বুঝেই উঠতে পারছিলাম না, এরা কি আসলেই কোনো পুলিশ ফোর্স নাকি আমার ফ্যান!

মেসি: (মাথা নেড়ে, হাতে মাটে চা নিয়ে) আর আমারটা দেখেছো? আমাকে পাঠিয়েছে ‘আর্জেন্টিনা দমন কমিশন’। সেখানে আমার একটা বিষণ্ণ মুখের ছবি দিয়ে নিচে লেখা— ‘মেসিকে এবার পেনাল্টি দেওয়া নিষিদ্ধ করল দমন কমিশন। ধরা পড়লেই লাল কার্ড!’ সত্যি বলতে, বাংলাদেশের মানুষের সেন্স অব হিউমার আমাকে মুগ্ধ করেছে। তারা ফুটবলটাকে যে লেভেলে নিয়ে যায়, সেটা আর্জেন্টিনাতেও দেখা যায় না।

সাংবাদিক: মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই ফটোকার্ডগুলোর গ্রাফিক্স এবং প্রেজেন্টেশন এতটাই প্রফেশনাল যে, মনে হবে কোনো বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান তাদের নতুন প্রোডাক্ট লঞ্চ করছে। অথচ এগুলো বানাচ্ছে স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা, কিংবা কোনো চাকরিজীবী তার অবসরে! কোনো স্পন্সর নেই, বুস্টিংয়ের জন্য কোনো ডলার খরচ নেই—অথচ রিচ হচ্ছে লাখ লাখ।

নেইমার: এক্সাক্টলি! আমি তো আমার পিআর টিমকে ডেকে বললাম, ‘তোমরা এত মিলিয়ন ডলার খরচ করে সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন করো, অথচ বাংলাদেশের এই ছেলেগুলো বিনা পয়সায় ‘ব্রাজিল দমন কমিশন’ বানিয়ে সারা দেশ কাঁপিয়ে দিচ্ছে!’

আমি তো ভাবছি, আমার পরবর্তী স্পন্সরশিপ অ্যানাউন্সমেন্টটা ওই ‘দমন কমিশন’-এর পেজ থেকেই করব। অরগানিক রিচ কাকে বলে, ওদের কাছ থেকে শেখা উচিত!

এআই জেনারেটেড
এআই জেনারেটেড

মেসি: (মৃদু হেসে) তুমি স্পন্সরশিপের কথা বলছো, আর আমি ভাবছি ভিন্ন কথা। আমি একটা ফটোকার্ড দেখলাম, যেখানে লেখা— ‘মেসি যদি এবার বিশ্বকাপ না জেতে, তবে তাকে বাংলাদেশে এনে জোর করে গরুর মাংস আর কাচ্চি বিরিয়ানি খাওয়ানো হবে।’ আমি তো ভয় পেয়ে আন্তোনেলাকে বললাম, ‘দেখো, এরা আমাকে ভালোবাসে নাকি শাস্তি দিতে চায়, বুঝতে পারছি না!’ তবে হ্যাঁ, ওদের গ্রাফিকসের কাজ দারুণ।

সাংবাদিক: এই ‘দমন কমিশন’-এর প্রধান কাজ কিন্তু শুধু নিজেদের দলের সাপোর্ট করা নয়, বরং বিরোধী দলকে চরমভাবে পচানো। যেমন, ব্রাজিল দমন কমিশনের একটা বড় হাতিয়ার হলো ‘সেভেন আপ’।

নেইমার: (মুখ কিছুটা বিকৃত করে, তবে হাসিমুখেই) ওহ নো! প্লিজ! এই একটা জিনিস থেকে আমি এখনো বের হতে পারলাম না। ২০১৪ সালের পর থেকে বাংলাদেশে কোল্ড ড্রিংকস ‘মোজো’ বিক্রি বোধহয় দশ গুণ বেড়ে গেছে, তাই না? আমি দেখলাম একটা কার্ডে লেখা— ‘ব্রাজিল দমন কমিশনের নতুন নির্দেশিকা: বাজারে সব সেভেন আপ বাজেয়াপ্ত করা হবে, যাতে ব্রাজিল ফ্যানরা ট্রলের শিকার না হয়।’

মেসি: (হো হো করে হেসে উঠে) আরে, এটা তো দারুণ আইডিয়া! আমি তো ভাবছি ‘আর্জেন্টিনা দমন কমিশন’-কেও একটা বুদ্ধি দেই। ওরা যেন বলে দেয়, ‘ব্রাজিলের খেলা থাকলে সেদিন সব ফ্যানকে বাধ্যতামূলক সেভেন আপ পান করতে হবে!’

নেইমার: আচ্ছা, তাই? তুমি খুব মজা পাচ্ছ, লিও? আমি কিন্তু ‘আর্জেন্টিনা দমন কমিশন’-এর আরেকটা কার্ড দেখেছি। সেখানে লেখা ছিল— ‘কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হারার পর, মেসিকে বিশেষ নিরাপত্তায় মরুভূমি পার করার ব্যবস্থা করেছিল দমন কমিশন।’ মনে আছে সৌদি আরবের সেই ২-১?

মেসি: (একটু লাজুক হেসে) হ্যাঁ, সেটা একটা দুর্ঘটনা ছিল। কিন্তু ভাই, আমরা তো শেষমেশ কাপটা নিয়েছি! তোমরা তো ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে সেই যে কাঁদলে... আমি দেখলাম একটা ফটোকার্ডে তোমার সেই কান্নার ছবি দিয়ে লেখা— ‘ব্রাজিল ফ্যানদের চোখের জল সংরক্ষণের জন্য দমন কমিশনের উদ্যোগে বিশেষ বালতি বিতরণ কর্মসূচি।’ সত্যি করে বলো, ওই বালতিগুলো কি তুমি স্পন্সর করেছিলে?

নেইমার: (হাসিতে ফেটে পড়ে) না ভাই! তবে আমি যদি জানতাম বাংলাদেশে এত চাহিদা, তাহলে আমি আমার ব্র্যান্ডের লোগো দেওয়া বালতিই পাঠাতাম!

পতাকা যুদ্ধ এবং বাড়ির ছাদ দখল

সাংবাদিক: ফটোকার্ড তো কেবল ফেসবুকের বিষয়। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশে আরেকটা যুদ্ধ হয়। সেটা হলো পতাকার যুদ্ধ। আপনারা কি জানেন, সেখানে এক একটা পতাকা কয়েক কিলোমিটার লম্বা হয়?

মেসি: আমি দেখেছি! কয়েক বছর আগে একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। আমি দেখলাম, একটা বাড়ির ছাদ থেকে শুরু করে পুরো গ্রামজুড়ে বিশাল এক আকাশি-সাদা পতাকা। আমার মনে হলো, এটা কি কোনো নদী নাকি পতাকা! আমি আমার মাকে বলেছিলাম, ‘মা, দেখো, আর্জেন্টিনাতেও বোধহয় এত কাপড় দিয়ে পতাকা বানায় না।’

আর্জেন্টিনা ভক্ত শাহরিয়ার পলাশের ফেসবুক পোস্ট। ছবি: সংগৃহীত
আর্জেন্টিনা ভক্ত শাহরিয়ার পলাশের ফেসবুক পোস্ট। ছবি: সংগৃহীত

নেইমার: আর ব্রাজিলের ফ্যানরা তো আরও এক কাঠি সরেস! আমি শুনলাম, একজন নাকি তার পুরো তিনতলা বাড়ি হলুদ আর সবুজ রং করে ফেলেছে! এমনকি তার গরুকেও নাকি হলুদ রং মাখিয়ে দিয়েছিল! মানে, চিন্তা করতে পারো? ‘ব্রাজিল দমন কমিশন’ নিশ্চয়ই এই গরুটাকে খুঁজছে এখন!

সাংবাদিক: একদম ঠিক বলেছেন। বাংলাদেশে একটা প্রবাদ আছে, ‘যে দলের পতাকা যত বড়, সেই দলের জোর তত বেশি।’ কিন্তু এই ‘দমন কমিশন’ এখন নতুন নিয়ম বের করেছে। তারা বলছে, ‘যার পতাকা বড় হবে, তাকে তত বেশি ট্যাক্স দিতে হবে!’

মেসি: (অবাক হয়ে) সত্যি নাকি?

সাংবাদিক: আরে না, এটাও একটা ফান ফটোকার্ডের লেখা!

মেসি: ওহ! আমি তো সত্যিই বিশ্বাস করে ফেলেছিলাম। কারণ ওদের যে পরিমাণ ডেডিকেশন, তাতে ওরা বাস্তবেও এমন কমিশন বানিয়ে ফেলতে পারে।

খেলার দিন রাতের উত্তেজনা ও চা-দোকানের আড্ডা

সাংবাদিক: বাংলাদেশে খেলার দিন রাতগুলোতে একটা অদ্ভুত পরিবেশ তৈরি হয়। রাত ৩টায় খেলা হলেও রাস্তার ধারের চায়ের দোকানগুলো খোলা থাকে। সেখানে বিশাল প্রজেক্টর লাগানো হয়। আর তখন শুরু হয় আসল ‘দমন’ প্রক্রিয়া।

নেইমার: আমি শুনেছি, সেখানে নাকি খেলা দেখার চেয়ে ঝগড়া দেখতে বেশি মজা। একদল আরেক দলকে এমনভাবে গালাগালি বা ট্রল করে, যা মাঠে আমাদের ট্যাকল করার চেয়েও ভয়ংকর! আমি একটা ফটোকার্ড দেখেছিলাম— ‘ব্রাজিল হেরে যাওয়ার পর, ব্রাজিল ফ্যানদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য দমন কমিশনের বিশেষ এসকর্ট সার্ভিস।’

মেসি: (হাসতে হাসতে) আর আমার একটা কার্ড মনে পড়ছে। সেখানে লেখা ছিল— ‘আর্জেন্টিনার ম্যাচ থাকলে, হার্ট অ্যাটাক রোধে আগে থেকেই এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখে আর্জেন্টিনা দমন কমিশন।’ এটা কি সত্যিই করে নাকি? আমাদের খেলা কি এতটাই টেনশনের?

সাংবাদিক: আপনাদের জন্য হয়তো এটা শুধুই একটা ফুটবল ম্যাচ, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের জন্য এটা যেন একটা বিশ্বকাপ ফাইনালের চেয়েও বড় কিছু। তারা আপনাদের জয়টাকে নিজেদের ব্যক্তিগত জয় হিসেবে উদ্‌যাপন করে, আর হারটাকে নেয় চরম ব্যক্তিগত অপমান হিসেবে।

এআই জেনারেটেড
এআই জেনারেটেড

নেইমার: এটা আসলে আমাদের জন্য বিশাল সম্মানের। আমরা হাজার হাজার মাইল দূরে থাকি, কখনও হয়তো সেভাবে বাংলাদেশ দেখিনি, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে—বিশেষ করে এই ‘ফটোকার্ড’ এবং ট্রলগুলোর মাধ্যমে—আমরা বুঝতে পারি তারা আমাদের কতটা গভীরভাবে ধারণ করে।

মেসি: একদম। এই যে ‘দমন কমিশন’ নিয়ে তারা মজা করছে, এর পেছনে কিন্তু একটা নিখাদ ভালোবাসা লুকিয়ে আছে। আমি যখন বিশ্বকাপ ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরি, তখন আমার বারবার মনে পড়ছিল বাংলাদেশের সেই পাগল ভক্তদের কথা, যারা মাঝরাতে রাস্তায় নেমে উল্লাস করছিল।

‘দমন কমিশন’-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সাংবাদিক: তো, আগামী বিশ্বকাপের জন্য এই ‘দমন কমিশনগুলোর’ প্রতি আপনাদের কোনো বার্তা আছে?

নেইমার: অবশ্যই! ‘ব্রাজিল দমন কমিশন’-এর প্রতি আমার একটাই অনুরোধ—ভাই, আমাকে আর ডাইভ নিয়ে ট্রল করো না। আমি কথা দিচ্ছি, এবার আমি মাঠে কম পড়ব এবং গোল বেশি করব। আর হ্যাঁ, দয়া করে সেভেন আপের বোতলগুলো একটু লুকিয়ে রেখো। বারবার ওই সবুজ বোতল দেখলে আমার নিজেরই এখন ভয় লাগে!

মেসি: আর ‘আর্জেন্টিনা দমন কমিশন’-কে আমি বলতে চাই—তোমরা অ্যাম্বুলেন্স রেডি রেখো না, বরং সেলিব্রেশনের জন্য মিষ্টি আর বিরিয়ানি রেডি রেখো। এবার আমরা কাপটা ডিফেন্ড করতে আসছি। আর যদি কোনো কারণে হেরেও যাই, তবে আমাকে যেন অন্তত গরুর মাংস খাওয়া থেকে ব্যান না করা হয়!

সাংবাদিক: (হেসে উঠে) আমি নিশ্চিত আপনাদের এই বার্তা শোনার পর, তারা নতুন করে আরও কয়েক হাজার ফটোকার্ড জেনারেট করবে। হয়তো কাল সকালেই আমরা দেখব, ‘মেসির বিরিয়ানি খাওয়ার আবদার প্রত্যাখ্যান করল দমন কমিশন’ অথবা ‘নেইমারের ডাইভ না দেওয়ার প্রতিশ্রুতির তীব্র নিন্দা!’

নেইমার: (উচ্চস্বরে হেসে) তা হতে পারে! ওদের সৃজনশীলতার কোনো সীমা নেই। আমি একটা জিনিস লক্ষ্য করেছি, ওদের এই কন্টেন্টগুলোতে কোনো ক্ষোভ বা প্রকৃত ঘৃণা নেই। সবই নিছক বিনোদন। ফুটবলের মূল আনন্দটাই তো এখানে।

মেসি: হ্যাঁ, ফুটবল একটা উৎসব। আর বাংলাদেশের মানুষ এই উৎসবটাকে যেভাবে নিজেদের মতো করে রাঙিয়ে নেয়, সেটা অভাবনীয়। আমি শুধু চাইব, এই ‘দমন’ প্রক্রিয়া যেন শুধু ফেসবুকের ফটোকার্ড আর চায়ের দোকানের আড্ডাতেই সীমাবদ্ধ থাকে। কেউ যেন এই আবেগ নিয়ে বাস্তব জীবনে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িয়ে না পড়ে।

সাংবাদিক: আপনাদের এই চমৎকার আড্ডা এবং বাংলাদেশের ভক্তদের প্রতি ভালোবাসার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করি, আপনাদের পারফরম্যান্স দিয়ে আপনারা দুই দলের এই ‘দমন কমিশন’-কে আরও বেশি ব্যস্ত রাখবেন।

নেইমার: আপনি যাচ্ছেন কোথায়? সাক্ষাৎকারের আসল ঘোষণা এখনও শেষ হয়নি।

হতবাক সাংবাদিক: বলুন।

নেইমার: ডিয়ার মেসি, আপনি বলুন।

মেসি: শোনেন তাহলে, বাংলাদেশে আমাদের সব ভক্তকে জানিয়ে দিন। আমরা দুজনও নিজ নিজ সমর্থক ক্লাবে যোগ দিতে আসছি।

ক্যাফে থেকে বেরিয়ে আসার সময় আমি ভাবছিলাম, পৃথিবীর অন্য প্রান্তে বসে থাকা এই দুজন মেগাস্টার হয়তো কোনোদিন বাংলাদেশের কোনো মেঠো পথে পা রাখেননি। কিন্তু বাংলাদেশের কোটি তরুণের আবেগ, সেই জিরো বাজেটের ফটোকার্ড ক্যাম্পেইন, আর চায়ের কাপের ঝড় ঠিকই তাদের ছুঁয়ে গেছে। ফুটবলের জাদুটাই বোধহয় এখানে—এটি কোনো ভাষা, দূরত্ব বা বাউন্ডারি মানে না। আর আমাদের ‘দমন কমিশন’? তারা নিশ্চয়ই এতক্ষণে এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েও নতুন কোনো ট্রল কার্ড বানানোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে!