‘জ্যান্ত কবর না দিতে’ বাংলাদেশিদের নিয়ে নেতানিয়াহুর সংবাদ সম্মেলন

এশিয়া পোস্ট নিউজ
‘জ্যান্ত কবর না দিতে’ বাংলাদেশিদের নিয়ে নেতানিয়াহুর সংবাদ সম্মেলন

তেল আবিবের মাটির ২০০ ফুট নিচে এক অতিগোপন বাংকারে আজ এক অভাবনীয় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হলো। তবে মজার ব্যাপার হলো, এই সংবাদ সম্মেলনে সিএনএন, বিবিসি, রয়টার্স বা আলজাজিরার কোনো নামিদামি সাংবাদিককে ডাকা হয়নি। বরং এটি বিশেষভাবে লাইভ স্ট্রিম করা হয়েছে বাংলাদেশের কিছু ভুঁইফোড় নিউজ পোর্টাল, ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন এবং ইউটিউব কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের উদ্দেশ্যে।

ক্লান্ত, বিধ্বস্ত এবং দৃশ্যত চরম হতাশ অবস্থায় ডায়াসে এসে দাঁড়ালেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার চোখের নিচে কালি, হাতে একগাদা স্ক্রিনশট। স্ক্রিনশটগুলোর বেশিরভাগই লাল, হলুদ আর নিয়ন রঙের বিশাল ফন্টে লেখা— ‘এইমাত্র পাওয়া: নেতানিয়াহুর শেষ বিদায়! কাঁপছে ইসরায়েল! মাটির নিচে তলিয়ে গেল তেল আবিব!’

গলা পরিষ্কার করে, অনেকটা কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে নেতানিয়াহু তার ‘মানবিক আবেদন’ শুরু করলেন:

‘সুপ্রিয় বাংলাদেশি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন, এবং ‘ডুম ডুম’ ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দিয়ে খবর পড়া ভাইয়েরা... আপনাদের কাছে আমার করজোড়ে বিনীত অনুরোধ, দয়া করে আমাকে মাফ করে দিন! আমাকে অন্তত জ্যান্ত কবর দেবেন না ভাই!

বিশ্বাস করুন, আমরা মাঠে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করছি ঠিকই, কিন্তু আপনাদের খবরের টাইটেল দেখে আমার নিজের দেশের মানুষ যতটা ভয় পাচ্ছে, ইরানের আসল মিসাইলেও ততটা ভয় পাচ্ছে না। আপনারা আমাকে দিনে ঠিক কতবার মারেন? সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি এক চ্যানেলে আমি ব্রেইন স্ট্রোক করেছি। দুপুরে লাঞ্চ করতে বসে দেখি আরেক পেজে আমার জানাজা পড়ানো হচ্ছে! আর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে দেখি, আমি নাকি ভয়ে মোজতবা খামেনির পা জড়িয়ে ধরে কাঁদছি! ভাই, মোজতবা খামেনি নিজেই নাকি ঠিকমতো হাঁটতে পারে না, আমি তার পা ধরব কী করে?

আমার সেনাবাহিনীর (IDF) মোরাল এখন একদম তলানিতে। কাল সকালে আমার এক শীর্ষ সেনাপতি এসে ইস্তফাপত্র দিল। আমি বললাম, ‘কেন? যুদ্ধ তো সবে শুরু!’ সে মোবাইল বের করে বাংলাদেশের একটা ফেসবুক পেজের ভিডিও দেখিয়ে বলল, ‘স্যার, আপনি কি খবর দেখেন না? ইরানের কাছে নাকি এমন এক ড্রোন আছে, যেটা আগে মানুষের নাম ধরে ডাকে, তারপর দরজা খুললেই গুলি করে দেয়! 

এইমাত্র বাংলাদেশের ওই ভাইয়াটা কনফার্ম করল!’ ভাইয়েরা আমার, আপনারা ইরানের বীরত্ব দেখাতে গিয়ে তাদের রীতিমতো ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ বা ‘সুপারম্যান’ বানিয়ে দিয়েছেন! আপনাদের বানানো খবর দেখে স্বয়ং ইরানের সুপ্রিম লিডার খামেনি সাহেবও হয়তো আপনাদের চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করে বসে আছেন এটা জানার জন্য যে, তার নিজের কাছে আর কী কী জাদুকরী অস্ত্র আছে! আপনাদের এক ভিডিওতে দেখলাম, ইরান নাকি এমন এক মিসাইল ছুড়েছে যেটা মাঝপথে চা খাওয়ার জন্য ব্রেক নেয়, আমাদের রাডারকে বোকা বানায়, তারপর আবার উড়ে এসে টার্গেটে আঘাত হানে! ভাই, এসব তো হলিউডের সায়েন্স ফিকশন সিনেমাতেও দেখায় না!

আমার বিশ্বখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা 'মোসাদ' (Mossad) এখন চরম ডিপ্রেশনে ভুগছে। মোসাদের প্রধান কাল আমাকে ফোন করে হাউমাউ করে কেঁদে দিলেন। বললেন, ‘স্যার, আমরা এত বিলিয়ন ডলার খরচ করে ইন্টেলিজেন্স বের করি, আর বাংলাদেশের ওই ইউটিউব চ্যানেলগুলো আমাদের চেয়ে দশ দিন আগে ভবিষ্যদ্বাণী করে দিচ্ছে! কালকের ভিডিওতে তারা বলল, ইসরায়েল নাকি আজ রাতেই আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাবে! স্যার, আমরা কি সাঁতার কাটা শিখব?’

ইসরায়েলের সাধারণ মানুষ এখন সাইরেন শুনলে আর বাংকারে যায় না, তারা আগে বাংলাদেশের ফেসবুক পেজ রিফ্রেশ করে দেখে যে তারা কি এখনও বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে! কাল রাতে আমার স্ত্রী সারা নেতানিয়াহু আমাকে ঘুম থেকে ধাক্কা দিয়ে তুলে বলছে, ‘ওঠো! জলদি ওঠো! বাংলাদেশের ওই চ্যানেল তো ব্রেকিং নিউজ দিল, আমরা নাকি সাবমেরিনে করে আমেরিকায় পালাচ্ছি! তুমি এখনো বিছানায় ঘুমাচ্ছ কেন? জলদি সুটকেস গোছাও!’

আমি আপনাদের কাছে অত্যন্ত বিনীতভাবে মানবিক আবেদন জানাচ্ছি। যুদ্ধ আমরা ময়দানে লড়ে নেব, কিন্তু দয়া করে আপনাদের এডিটিং প্যানেলে বসে আমাদের ধ্বংস করবেন না। আপনাদের এই ‘থাম্বনেইল-সন্ত্রাস’ আর বিকট শব্দের সাসপেন্স মিউজিক বন্ধ করুন। আপনারা চাইলে আমি আপনাদের সব কয়টা চ্যানেলে স্পন্সরশিপ দেব, আমার পুরো মন্ত্রিসভাকে দিয়ে আপনাদের চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করাব, বেল আইকনেও চাপ দিয়ে রাখব, ভিডিওতে লাইক-কমেন্ট-শেয়ার সবই করব... তাও দয়া করে আমাদের একটু শান্তিতে থাকতে দিন।

বক্তব্য শেষে নেতানিয়াহু পকেট থেকে টিস্যু বের করে চোখ মুছতে লাগলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে এক পাশ থেকে তার এক নিরাপত্তা উপদেষ্টা হন্তদন্ত হয়ে বাংকারে প্রবেশ করলেন। হাতে আইপ্যাড। কাঁপতে কাঁপতে তিনি বললেন, ‘‘স্যার! সর্বনাশ হয়ে গেছে! বাংলাদেশের একটা পেজ মাত্র ব্রেকিং নিউজ দিয়ে লাইভে এসেছে— তারা বলছে, আপনি নাকি ভয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এখন গাজায় ত্রাণ বিলি করতে চলে গেছেন!’

নেতানিয়াহু আর কিছু বলতে পারলেন না। শূন্য দৃষ্টিতে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলেন। তারপর কপালে হাত দিয়ে মাইক্রোফোনের ওপর মাথা ঠুকে জ্ঞান হারালেন।

সংবাদ সম্মেলন এখানেই সমাপ্ত!

[সতর্কীকরণ: নেতানিয়াহুকে নিয়ে লিখিত উপরোক্ত বিষয়টি স্যাটায়ার বা রম্য লেখা। পাঠকের বিনোদনের উদ্দেশে এশিয়া পোস্ট স্যাটায়ারটি লিখেছে। বিষয়টি বাস্তব ভেবে পাঠককে বিভ্রান্ত না হতে সতর্ক করা হলো।]