Advertisement

আনফিট লিটনকে কেন জিম্বাবুয়ে পাঠানো হলো, জবাব চেয়েছে বিসিবি

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
আনফিট লিটনকে কেন জিম্বাবুয়ে পাঠানো হলো, জবাব চেয়েছে বিসিবি
লিটন দাস। ছবি: এপি

চোট পুরোপুরি না সারলেও জিম্বাবুয়ে সফরে পাঠানো হয়েছিল লিটন দাসকে। শেষ পর্যন্ত কোনো ম্যাচ না খেলেই দেশে ফিরতে হয় এই উইকেটকিপার-ব্যাটারকে। আনফিট একজন ক্রিকেটারকে কেন সফরে পাঠানো হলো, তার ব্যাখ্যা নির্বাচক ও চিকিৎসা বিভাগের কাছে চেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

বুধবার বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল। লিটনকে জিম্বাবুয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তামিম বলেন, ‘লিটন দাস জিম্বাবুয়েতে কেন গেল, যদি সে ফিট না থাকে এবং পরবর্তী সময়ে কেন ভিন্ন রিপোর্ট এল, সেই প্রশ্ন করা হয়েছে। নির্বাচক ও চিকিৎসা বিভাগের কর্মকর্তারাও এর জবাব দিতে বাধ্য। কেউ নিজের কাজ ঠিকভাবে না করলে, তিনি যেই হোন না কেন, তাকে জবাবদিহি করতে হবে।’

গত ১৪ জুন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে বাঁ পায়ের কাফ মাসলে চোট পান লিটন। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে থাকলেও কোনো ম্যাচ খেলতে পারেননি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট থেকেও তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

পরে চিকিৎসা বিভাগের ছাড়পত্র নিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে দলে রাখা হয় লিটনকে। দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে তার খেলার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছিল বিসিবি। কিন্তু সফরে যাওয়ার পরও ব্যথা না কমায় কোনো ম্যাচ না খেলেই দেশে ফিরে আসেন তিনি। আগামী মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দলেও রাখা হয়নি লিটনকে।

দেশে করা একাধিক পরীক্ষায় লিটনের চোটের বড় কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই তার পুনর্বাসন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল। পরে বিদেশে পরীক্ষা করানোর পর পায়ের পেশিতে ফোলা শনাক্ত হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে ভুল বা অস্পষ্টতা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে বিসিবি।

তামিম বলেন, ‘একজন ক্রিকেটারকে স্ক্যান করানোর পর সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই ফিজিওরা চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নেন। প্রতিবেদনটি সঠিক না হলে অনেক কিছুই ভুল হতে পারে। সে কারণে হাসপাতাল পরিবর্তন করা কিংবা আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করানোর সুযোগ রাখার বিষয়টি আমরা বিবেচনা করছি।’

ভবিষ্যতে কোন কোন হাসপাতালে ক্রিকেটারদের পরীক্ষা করানো হবে, তার একটি তালিকা তৈরির দায়িত্ব চিকিৎসা বিভাগের চেয়ারম্যানকে দেওয়া হয়েছে। পুনর্বাসন কার্যক্রম দেখাশোনার জন্য সাবেক কর্মকর্তা মারিওকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তও নিয়েছে বিসিবি। প্রয়োজন হলে আরও একজন ফিজিও নিয়োগ করা হতে পারে।

লিটনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ইতিমধ্যে আলোচনা করেছে বিসিবির শৃঙ্খলা বিভাগ। তাদের ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তামিম।