কোচ নিয়োগে বিসিবির ভুল, স্বীকার করলেন তামিম

জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়ায় নিজেদের নির্ধারিত নিয়ম ঠিকভাবে অনুসরণ করেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করা অনেক আবেদনকারীকেও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বিসিবির এই ভুল প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল।
বুধবার বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে কোচ নিয়োগ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তর দেন তামিম। শুরুতেই তিনি মেনে নেন, পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও সঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।
তামিম বলেন, ‘আমাদের স্বীকার করতে হবে, বিসিবির পক্ষ থেকেও প্রক্রিয়াটি ঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। কীভাবে পুরো বিষয়টি হয়েছে, তা জানার জন্য আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসেছি।’
প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা অথবা লেভেল ওয়ান কোচিং সনদ থাকার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। আবেদন জমা পড়ে ২১৮টি। তবে শর্ত পূরণ না করা অনেক প্রার্থীকেও অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হয়।
এখানেই বিসিবির ভুল হয়েছে বলে মনে করেন তামিম। কারণ বিজ্ঞপ্তির শর্ত পূরণ না করায় আরও অনেকে আবেদন করা থেকে বিরত থাকতে পারেন। অথচ একই যোগ্যতা না থাকা আবেদনকারীদের পরে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়েছে। এতে সব আগ্রহী প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়নি।
সেই প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিসিবি। আগের আবেদনকারীদেরও আবার আবেদন করতে হবে। নতুন পদ্ধতিতে লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়ার পর ফল প্রকাশ করা হবে। সেখানে উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই শুধু মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
ব্যবহারিক দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে তামিম। তবে কোচ হতে হলে ক্রিকেটের মৌলিক নিয়ম সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে বলে মনে করেন তিনি। আগের পরীক্ষার কয়েকটি উত্তরপত্র দেখে বিস্মিত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি।
তামিম বলেন, ‘একটি প্রশ্ন ছিল, ওয়াইড বলে কী কীভাবে আউট হওয়া যায়। সেখানে উত্তর এসেছে বোল্ড ও এলবিডব্লিউ। আরেকজনকে অফ সাইডের পাঁচটি ফিল্ডিং পজিশনের নাম লিখতে বলা হয়েছিল, তিনি লিখেছেন মিড উইকেট। এই মৌলিক জ্ঞানগুলো তো থাকতে হবে।’
নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের তদবির গ্রহণ করা হবে না বলেও সতর্ক করেছেন তামিম। প্রার্থী লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় যোগ্যতা দেখাতে না পারলে যে পর্যায় থেকেই সুপারিশ আসুক, সেটি বিবেচনা করবে না বিসিবি।
তামিম বলেন, ‘কোনো কোচের বিষয়ে কোনো ধরনের অনুরোধ গ্রহণ করা হবে না। তিনি পরীক্ষায় পাস না করলে কিংবা ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় ভালো না করলে কোনো সুপারিশই আমি গ্রহণ করব না। এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ও শিশুদের ভবিষ্যতের বিষয়। এখানে কোনো আপস নেই।’
দেশের ৫৯ জেলা ও ঢাকা মহানগরের দুটি পদসহ মোট ৬১ জন কোচ নিয়োগ দিতে চাইছে বিসিবি। তৃণমূল থেকে ক্রিকেটার তুলে আনার দায়িত্ব তাঁদের ওপর থাকবে বলেই নিয়োগে ন্যূনতম মান নিশ্চিত করতে চাইছে বোর্ড।
.png)


-398943.webp)



